রোজায় পানিশূন্যতা মুক্ত থাকার উপায়

রোজায় পানিশূন্যতা মুক্ত থাকার উপায়

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৫ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৭:০৩

সারা দিন রোজা শেষে শরীরে সব থেকে বেশি দরকার হল পানি। যেহেতু শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই তরল। বিশেষজ্ঞরা পানি গ্রহণের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন মতামত দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব মেডিসিন’য়ের পরামর্শ নারীদের প্রতিদিন ২.৭ লিটার এবং পুরুষদের ৩.৭ লিটার তরল গ্রহণ করা উচিত।

তবে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিয়মিতভাবে এই পরিমাণ পানি গ্রহণের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। যদিও রমজানে পানি ও খাবার গ্রহণের নিয়মে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এ সময়ে পানির গ্রহণের পরিমাণেও আসে পরিবর্তন।

‘পার্সোনা হেল্থ’য়ের পুষ্টিবিশেষজ্ঞ শওকত আরা সৈয়দা লোপার মতামত, “সেহেরির সময় না বুঝে ইচ্ছা মতো পানি খাওয়া ঠিক নয়। খাওয়া থেকে শুরু করে আজান দেওয়া পর্যন্ত ৫শ’ থেকে ৭৫০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। ইফতারের সময় কমপক্ষে ৫শ’ মিলিলিটার পানি গ্রহণ করা প্রয়োজন, এরপর সন্ধ্যার বাকি সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি গ্রহণ যেতে পারে।”

কানাডার একজন পুষ্টিবিদ ও দ্য হেলদি রামাদান গাইডের সহ-লেখক নাজিমা কুরেশি সিএনএন ডটকম’কে বলেন
“রমজানে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান না করায় হজমজনিত সমস্যা, পানিশূন্যতা এবং শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে পারেন।”

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের বৃদ্ধিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ, অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ এবং গবেষক ড. মাইকেল পার্সকিন বলেন, “পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে মাথা ঘোরা, রাগান্বিত অনুভব করা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও শরীর দুর্বল লাগা রয়েছে।” যদি এসব উপসর্গ অবহেলা করা হয়, তাহলে গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া বা হাড় ভেঙে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যাদের হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা হৃদস্পন্দন দ্রুততর করতে পারে এবং এটি ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বৃক্কের স্বাস্থ্যও পানির ওপর নির্ভরশীল।
‘এনওয়াইইউ গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিন’য়ের সহযোগী অধ্যাপক ও নেফ্রোলজিস্ট ডা. লামা নাজ্জাল ব্যাখ্যা করেন, “কিডনি বা বৃক্ক দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে পানি কম গ্রহণ করলে এই অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।”

তাই রমজানে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত পানি গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শরীরের পানির প্রয়োজন মেটানোর কৌশল রপ্ত করা জরুরি। পুষ্টিবিশেষজ্ঞ শওকত আরা সৈয়দা লোপা এ বিষয়ে দিয়েছেন বিশেষ কিছু পরামর্শ। পানির পাশাপাশি এভাবেও নিয়ম মেনে পানিশূন্যতা কমানো যায়।

সেহেরিতে যা খাবেন : সাহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও পানিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন শরীরে পানিশূন্যতা কম অনুভূত হবে

পানি: অন্তত ৩-৪ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
দুধ ও লাবাং: দুধ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ভালো উৎস এবং লাবাং (টকদই ও পানি মিশ্রিত শরবত) শরীর আর্দ্র রাখে।
পানিসমৃদ্ধ ফল: শসা, তরমুজ, কমলা, স্ট্রবেরি ও আঙুরের মতো ফল শরীরকে আর্দ্র রাখে।
ওটস ও দই: এটি হজমে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ শরীরকে আর্দ্র রাখে।
ইফতারে যা খাবেন : দিন শেষে শরীর পানির জন্য তৃষ্ণার্ত থাকে, তাই সঠিক পানীয় গ্রহণ করা জরুরি।
খেজুর ও পানি: খেজুর দ্রুত শক্তি দেয় এবং শরীরকে পুনঃভাবে আর্দ্র করতে পারে।
ডাবের পানি: এটি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ যা শরীরের জন্য খুব উপকারী
লেবুর শরবত: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই পানীয় শরীরকে সতেজ রাখে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে
ফলের রস: এটি শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করে ও শক্তি জোগায়।

মি/গাজী

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading