দোল পূর্ণিমার মেলায় জমে উঠেছে ঘোড়ার হাট
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৩:২৫
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর দোল পূর্ণিমার মেলায় জমে উঠেছে ঘোড়ার হাট। ৫১৬ বছরের পুরোনো এ মেলায় বিজলি, কিরণমালা, রানী, সুইটি, ইন্ডিয়ান তাজীসহ আরও বাহারি নামের ঘোড়া আনা হয়েছে।
এদের ক্ষিপ্ততা আর বুদ্ধিমত্তায় মেলে নামের সার্থকতা। দুলকী চলনে বিদ্যুৎগতি, চোখের পলকে যেন মাইল পার এমন নানামুখী গুণের কারণে ঘোড়াগুলোর কদরও বেশি। পছন্দের ঘোড়া ক্রয় করতে ক্রেতাদের মধ্যেও চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। মেলায় ঘোড়া দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
মেলার আয়োজকরা জানান, উত্তরাঞ্চলের একমাত্র ঘোড়া বেচাকেনা হয় গোপিনাথপুর দোলের মেলায়।
সারাদেশ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন এখানে। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী চলে এ মেলা। সবকিছু মিলে এ মেলা এক মাস চললেও পশুর মেলা হয় প্রথম ১০দিন। গত শুক্রবার দোল পূর্ণিমার দিন থেকে মেলায় অবস্থান নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়া ব্যবসায়ীরা। ঘোড়া ছাড়াও মহিষ, গরু, ভেড়া ও ছাগল কেনাবেচা হয় এ মেলায়।
ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় এখন মুখরিত ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মেলার ঘোড়ার মেলা। দরদাম ঠিকঠাকের পর একটি খেলার মাঠে ঘোড়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রেতাকে দেখানো হয় ঘোড় দৌড়। এবার ইন্ডিয়ান একটি তাজি ঘোড়ার দাম হাঁকা হয় আড়াই লাখ টাকা।
মেলা কমিটির আয়োজকরা জানান, ৫১৬ বছরের পুরোনো এ মেলা। শরু থেকেই ঘোড়া ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রসিদ্ধ। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভুটান, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত এখানে।
বর্তমানে সে দেশগুলোর বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড় সওয়ারি ও ঘোড়া মালিকরা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসেন। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামে গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ।
মেলা কমিটির সভাপতি ও গোপিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ঘোড়ার মেলা হলেও গ্রামীণ মেলার সব আয়োজনই করা হয়েছে। এত বড় মেলা উত্তরবঙ্গের কোথাও নেই। রমজান মাসের কারণে এবার মেলায় সব ধরনের বিনোদনমূলক যেমন সার্কাস ও যাত্রাপালা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, মেলা উপলক্ষ্যে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে গোপিনাথপুরে। তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউডি/ আরকে

