জিম্মিদের মুক্তি না দিলে গাজা দখলের হুমকি ইসরায়েলের

জিম্মিদের মুক্তি না দিলে গাজা দখলের হুমকি ইসরায়েলের

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০

প্যালেস্টাইন স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসের হাতে বন্দী থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া হলে গাজা আংশিক দখল করে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাল্টা হুমকি দিয়ে হামাস বলেছে, ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে জিম্মিদের ‘কফিনে’ করে ফেরত পাঠানো হবে।

গাজায় ১৫ মাস ধরে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পর গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। ইসরায়েলের ইচ্ছা, প্রথম ধাপের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে সব জিম্মিকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা। তবে হামাসের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে নিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে গাজায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হবে।

এমনই দ্বন্দ্বের মধ্যে ১৮ মার্চ গাজায় আবার নৃশংসতা শুরু করে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে নতুন করে হামলা শুরু করেছেন তাঁরা। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির সময় ৩৩ জনকে মুক্তি দেওয়ার পর এখনো হামাসের হাতে ৫৮ জন বন্দী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আমাদের জিম্মিদের মুক্তি না দিতে হামাস যত গোঁ ধরে থাকবে, আমরা তত জোরদার চাপ দেব। এর মধ্যে (গাজার) অঞ্চল দখলসহ অন্যান্য পদক্ষেপ রয়েছে। সেগুলো আমি এখানে বিস্তারিত বলব না।

এর আগে বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, গাজার অন্য এলাকাগুলোয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে অভিযান শুরু করা হবে। পাশাপাশি আরও এলাকা থেকে বাসিন্দাদের চলে যাওয়া নির্দেশ দেওয়া হবে। এরপরই গাজা নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচে আদ্রি।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর বৃহস্পতিবারও গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এদিন উত্তর গাজায় জাবালিয়া এলাকায় আবদুল লতিফ আল-কানোউ নামে হামাসের এক মুখপাত্র নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লতিফ আল-কানোউয়ের অবস্থান করা তাঁবুতে সরাসরি হামলা চালায় ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৮৫৫ জনের মৃত্যু হলো। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় মোট নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ২০৮ জন। আহত ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১০ জন।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading