এনবিআরকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (২৯ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ০০:৩০
পোশাকশিল্পে দেশে তৈরি সুতার ব্যবহার বাড়াতে স্থলবন্দর দিয়ে পোশাকশিল্পের সুতা আমদানি বন্ধ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়েজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, অথবা বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন সংশোধনী আনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে অন্যতম কাঁচামাল সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানায় বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। প্রতিবেশি ভারত থেকে দেশের স্থলবন্দর দিয়েই সুতা আমদানি হয়ে থাকে। এ ছাড়া চীন ও তুরস্কের মতো দেশ থেকে সুতা আমদানি হয়ে থাকে।
ইন্ডিয়ার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদিত সুতা কলকাতায় গুদামজাত করা হয়। এরপর সেখান থেকে সুতা বাংলাদেশ পাঠানো হয়। এসব সুতা তুলনামূলক কম দামে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ কারণে দেশি সুতার পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতা বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে দেশের বস্ত্রশিল্প কারখানাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ)।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই খাতের অংশীজনদের মতামত ও প্রয়োজনীয় তদন্তের ভিত্তিতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, চীন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান এবং দেশে উৎপাদিত সুতার দাম প্রায় একই রকম হলেও স্থলবন্দর দিয়ে আসা ইন্ডিয়ার সুতার দাম অনেক কম থাকে। অর্থাৎ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা সুতা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে আসে। এতে দেশের সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গত জানুয়ারি মাসে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতার মান যাচাই করে শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা কারিগরি সক্ষমতা নেই। এ ছাড়া স্থলবন্দরে চালান বিভক্ত করার সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে, যা দেশীয় মিলগুলোর জন্য ক্ষতিকর। সে জন্য তারা সুতা কেবল সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানির প্রস্তাব দেন।
ইউডি/এবি

