বিনোদনের খোঁজে চিড়িয়াখানায় জনস্রোত
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২২:৩০
ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভিড় জমিয়েছে হাজারো মানুষ।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। সকাল ১১টার দিকেই চিড়িয়াখানার সামনের সড়কটি পূর্ণ হয়ে গেছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে। এ সময় চিড়িয়াখানা টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় সোয়া এক লাখ দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে, যা দিন শেষে দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে রিকশা, বাস, বাইকে করে চিড়িয়াখানার দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় করায় আশপাশের এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়, ফলে অনেককেই হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।
চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায় যে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শিশু থেকে বৃদ্ধ— সব বয়সের মানুষ চিড়িয়াখানায় এসেছে। অনেকে পরিবারের ছোট সদস্যদের প্রকৃতির কাছাকাছি এনে প্রাণীদের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিচ্ছেন।
দর্শনার্থীরা ঢুকতেই চিরাচরিত বানরের খাঁচার কাছে যান। কেউ সামনে থাকা চিড়িয়াখানার ম্যাপটি বোঝার চেষ্টা করেন। পরে যে যার মতো ঘুরে ঘুরে বন্যপ্রাণী দেখেন, কেউ সবুজের মাঝে হেঁটে বেড়ান, কেউ বেঞ্চে বসে নিজেদের মধ্যে গল্প করেন।
তবে শিশুদের মধ্যে ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস। তারা পশুর খাঁচার সামনে দীর্ঘ সময় কাটান, অবাক চোখে পশুদের পর্যবেক্ষণ করেন। কেউ কেউ পশুদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য আওয়াজ করে ডাকার চেষ্টা করেন।
এবার চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তিনটি জেব্রা শাবক ও ১১ মাস বয়সী দুটি বাঘের শাবক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে।
আগত দর্শনার্থীদের অনেকেই ঢাকার আশপাশের এলাকা— সাভার, গাজীপুর থেকে এসেছেন। কেউ কেউ ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে এখানে ঘুরতে এসেছেন। এছাড়া যারা এবার ঢাকায় ঈদ করছেন, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন। আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকে একাধিকবার এসেছেন, প্রতিবারই যেন স্মৃতি রোমন্থন করেন।
উত্তরা থেকে আসা মো. বশির মিয়া বলেন, গ্রামের আত্মীয় ও ছোট ছেলেকে নিয়ে এসেছি চিড়িয়াখানায়। এত ভিড় হবে বুঝতে পারিনি, তবে বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ আর হাতি দেখে দারুণ লাগছে।
ইউডি/এবি

