ট্রাম্পের শুল্ককাণ্ড: বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে, অস্থিরতা তুঙ্গে
আসাদুজ্জামান। রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৭:০৫
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন এই শুল্কনীতির জেরে ২০২৫ সালে বিশ্ববাণিজ্য প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে। এরই মধ্যে শেয়ারবাজার, মুদ্রাবাজার ও স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করা সব আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে বেসলাইন ট্যারিফ বা সাধারণ শুল্ক এবং বাংলাদেশসহ অর্ধশতাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উচ্চ শুল্কহার আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (০৫ এপ্রিল) থেকে মার্কিন বন্দরগুলোতে আসা সব আমদানি পণ্যের ওপর থেকে ১০ শতাংশ হারে সাধারণ শুল্ক কেটে নেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৫৭টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চ শুল্কহার আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বজনস্বীকৃত শুল্ক হারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের আগের মেয়াদে হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা কেলি অ্যান শ বলছেন, তার জীবদ্দশায় এত বড় আর বিস্তৃত একক বাণিজ্য পদক্ষেপ দেখেননি। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে বিরাট ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এটি। ‘রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ নামে ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতি বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর ফলে বড় বড় প্রায় সব শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে; তেল-সোনাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আমেরিকার অর্থনীতি চাঙা করতে এই পাল্টা শুল্কারোপ করার দাবি করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান। আমেরিকার শুল্ক কর্মকর্তারা শনিবার (০৫ এপ্রিল) থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফাভাবে আরোপিত নতুন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সংগ্রহ শুরু করেছেন। মার্কিন সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও শুল্ক গুদামে এই বেসলাইন বা ন্যূনতম শুল্ক কার্যকর হয় স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে। প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, মিশর ও সৌদি আরব। তবে যেসব পণ্য শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটের আগে প্লেন বা জাহাজে করে আমেরিকার পথে রওয়ানা দিয়েছে, তাদের জন্য ৫১ দিনের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ রাখা হয়েছে। এসব পণ্যকে ২৭ মে’র মধ্যে পৌঁছাতে হবে, তা না হলে নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। পরবর্তী ধাপে আগামী বুধবার (০৯ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে আরও উচ্চমাত্রার শুল্কগুলো-১১ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
ইউডি/এজেএস

