ট্রাম্পের শুল্ককাণ্ড: আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ
আরেফিন বাঁধন। রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৭:০৮
আমেরিকার শুল্ক আরোপের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করেই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাপারটা আকস্মিক নয়, আমরা এর জন্য প্রস্তুত। শনিবার (০৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে খলিলুর রহমান এ কথা বলেন। এর আগে মার্কিন শুল্ক আরোপ নিয়ে যমুনায় বৈঠক হয়।খলিলুর রহমান বলেন, এটা আমাদের জন্য আকস্মিক কোনো বিষয় না। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই আমেরিকা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করতে বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই সূত্রে তিনি (খলিলুর) ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তখন থেকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ক্রমাগত এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সুতরাং ব্যাপারটা আকস্মিক নয়, আমরা এর জন্য প্রস্তুত। শিগগিরই আমরা একটা ব্যবস্থা নেব এবং সেটা মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেই নেব।
এদিকে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সংকট কাটাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় সরকার। তিনি বলেন, আমেরিকার আরোপ করা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে মার্কিন আমেরিকার সঙ্গে ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টা করা হবে।
বৈঠক শুরুর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কমবে না, বরং আরও বাড়বে। শফিকুল আলম বলেন, আশা করি আমাদের রেসপন্স ইতিবাচক হবে। এখন যা রপ্তানি হচ্ছে এর থেকে আরও বাড়বে এবং সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশ রপ্তানি করে এমন সব দেশেই রপ্তানি বাড়বে। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আজ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিল। তাদের তিনঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। সেখানে রপ্তানিকারকদের বক্তব্যকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বৈঠকে অর্থ, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুল্ক কমাতে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর লক্ষ্যে আমেরিকার আরোপিত শুল্ক কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। শনিবার (০৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিজ কার্যালয়ে আমেরিকার আরোপিত শুল্ক ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়ে বৈঠকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান।
বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। এখন আমাদের ওপরও শুল্ক বসিয়েছে। আমরা বলেছি, এত শুল্ক থাকলে আমাদের দেশে বিনিয়োগ আসবে না। বৈঠকে ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এহসান দ্রুতই সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সানেম’র নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, আমরা বলেছি- সরকারকে দ্রুতই একটা ইতিবাচক বার্তা দিতে। আমরা কিছু পরামর্শও দিয়েছি কিভাবে দ্রুতই এসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
ইউডি/এজেএস

