মুন্সীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ করার মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৮:৪০
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের এখানে মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এখানে যেন একটি মেডিকেল কলেজ করা যায়। এক বা দুই মাসের ভিতরে মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনের জন্য আমরা সবাই চেষ্টা করছি।’
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে জেলার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষ এক সভা শেষে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত, কুণ্ডেরবাজার ব্রিজ ও দিঘিরপাড় সেতু, পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুন্সীগঞ্জ পৌরভবন এবং শিল্পকলা একাডেমি উন্নয়ন, কাটাখালী খাল সংস্কারসহ জেলার প্রয়োজনীয় জরুরি উন্নয়ন করা হবে।
এ সময় উপদেষ্টা অতিদ্রুত মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দেন। অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়গুলোও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয় এবং সেগুলোর নিয়মিত ফলোআপ করে দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জোর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সম্মানিত সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মফিদুর রহমান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, এসবি বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. গোলাম রসুল, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াসহ দেশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি ছিলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত। আয়োজনটিতে মুন্সীগঞ্জের ভ্রমণ বই ‘প্রত্নকথা’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
সভায় জেলার চলমান ও পরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন-সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মুন্সীগঞ্জের রাস্তা সংক্রান্ত প্রকল্প ও কাটাখালী খাল উন্নয়ন প্রকল্প, মাওয়া ফেরিঘাট অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পসহ উন্নয়ন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা তাদের পরিকল্পনা ও প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন।
এই সভার একটি বিশেষ অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহ নিয়ে প্রণীত ‘প্রত্নকথা’ নামক একটি তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় ভ্রমণ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
জেলা প্রশাসন, মুন্সীগঞ্জ-এর উদ্যোগে প্রণীত এই বইটিতে জেলার ৬টি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহের পরিচিতি, ইতিহাস, অবস্থান, ছবিসহ বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সভায় উপস্থিত উপদেষ্টাবৃন্দ।
এ ছাড়াও জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ‘২৪ বিপ্লবের সূতিকাগার’ বিষয়ক একটি বুকলিটও প্রকাশিত হয়। উক্ত বুকলিস্টে সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুন্সীগঞ্জসহ দেশব্যাপী সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের চিত্রসম্বলিত ধারাবাহিক বর্ণনা এবং মুন্সীগঞ্জের শহিদগণের ছবি ও শাহাদাতবরণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এটি মুন্সীগঞ্জ জেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন।
ভ্রমণ বইটি প্রকাশনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্ননগরীখ্যাত মুন্সীগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা, জেলার পর্যটনকে সমৃদ্ধ করা ও আগামীর প্রজন্মের কাছে এগুলোকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের একটি ভ্রমণ বই প্রকাশ করতে পেরেছি এবং আজকে এতো সুন্দর একটি আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এটির মোড়ক উন্মোচন করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বইটি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জানার সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দফতর-সংস্থা, লাইব্রেরি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, রিসোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান নিজামউদ্দিন হেলাল বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। ভৌগলিক কারণেই মুন্সীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপন জরুরি। এতে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে। এই প্রাণের দাবি এখন বাস্তবায়নের পথে।’

