বাবার মৃতদেহ ঘরে রেখেই এসএসসি পরীক্ষায় বসলেন মারিয়া

বাবার মৃতদেহ ঘরে রেখেই এসএসসি পরীক্ষায় বসলেন মারিয়া

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২৩:৩৫

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও মানবিক ঘটনা। এসএসসি পরীক্ষার দিনই হারিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষকে তবুও বাবার স্বপ্ন পূরণে পিছপা হননি কিশোরী মারিয়া আক্তার। বাবার মরদেহ ঘরে রেখে চোখের জল মুছে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন গাবুয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা মামুন হাওলাদার। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। সকালে মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। আর ঠিক সেই সময়, সকাল ১০টায় ছিল এসএসসি পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুসংবাদে ভেঙে না পড়ে, ভেতরে চাপা কষ্ট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হন তার মেয়ে মোসাঃ মারিয়া আক্তার।

পরিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, বাবা সবসময় চাইতেন আমি পড়ালেখা করে মানুষ হই। আমি জানি, বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করতেন এই পরীক্ষার দিনটার জন্য। তাই কাঁদতে কাঁদতেই প্রস্তুত হই। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই পরীক্ষা দিতে গেছি।

তিনি বদরপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাবার নিথর দেহ ঘরে রেখে সাহসিকতার সঙ্গে পৌঁছান পরীক্ষাকেন্দ্রে। চোখ মুছে কলম তুলে নেন উত্তরপত্রে।

শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরদ লাল বৈদ্য বলেন, বাবার মৃত্যু শোকের মধ্যেও মারিয়া যেভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তা সত্যিই অনন্য উদাহরণ। তার মানসিক দৃঢ়তা, সাহস ও দায়িত্ববোধ আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় তার পাশে আছি।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading