ঢাকা উত্তর সিটির সিইও কামরুজ্জামানকেও সরিয়ে দেওয়া হলো

ঢাকা উত্তর সিটির সিইও কামরুজ্জামানকেও সরিয়ে দেওয়া হলো

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (২৬ মে) ২০২৫, আপডেট ২২:১০

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে এ কর্মকর্তাকে ঢাকা উত্তর সিটি থেকে সরিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এই হিসেবে তিনি মাত্র তিন মাস আট দিন এই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে গত এপ্রিলে একই দিনে পৃথক দুটি আদেশে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ এপ্রিলের ওই আদেশে মো. নুরুজ্জামানকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক এবং মো. মনিরুজ্জামানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।

ঢাকা উত্তর সিটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে সিইও কামরুজ্জামানের করপোরেশনের বিভিন্ন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতানৈক্য চলছিল। ঢাকা উত্তর সিটির একমাত্র স্থায়ী হাট গাবতলী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া নিয়েও প্রশাসকের সঙ্গে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতবিরোধ তৈরি হয়। হঠাৎ বদলি হয়তো এসব মতানৈক্যের কারণে করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অন্য কর্মকর্তারা।

এদিকে গাবতলী হাট ইজারার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রধান ছিলেন সিইও কামরুজ্জামান। তিনিসহ মূল্যায়ন কমিটিতে থাকা ডিএনসিসির পাঁচটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং নিরীক্ষা কর্মকর্তা মিলে গত ৭ এপ্রিল সভা করে গাবতলী হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স আরাত মোটরকে ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তবে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসক খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত দেন। কারণ হিসেবে তখন প্রশাসক এজাজ প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ইজারার দরপত্রপ্রক্রিয়ায় ভুল ছিল।

গত ৩০ এপ্রিল গাবতলী হাটের ইজারা নিয়ে ‘সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারা পাননি, গাবতলী হাটে খাস আদায় করছেন “পছন্দের” ব্যক্তিরা’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গাবতলী হাটের দরপত্রপ্রক্রিয়ায় প্রশাসকের পছন্দের ব্যক্তি সর্বোচ্চ দরদাতা হতে পারেননি। তাই তিনি দরপত্র আহ্বানে প্রক্রিয়াগত ভুল দেখিয়ে ইজারার পরিবর্তে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বাস্তবে খাস আদায়ের নামে ওই হাট থেকে হাসিল আদায় করছেন প্রশাসকের পছন্দের দরদাতা ও তার লোকজন।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading