দেশ ত্যাগের খবর উড়িয়ে দিয়ে ‘ফাইট’ করে যাওয়ার ঘোষণা ফারুকের
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, আপডেট ১৪:৪৫
বিসিবি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে না চাইলেও অনেকটা জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হলো সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদকে। ৮ বিসিবি পরিচালকের অনাস্থা প্রস্তাব এবং বিপিএলে অনিয়মের কারণে তাকে এনএসসির পরিচালক মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে৷ পরিচালক পদ হারানোয় বিসিবি সভাপতির পদও হারিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
চরম নাটকীয়তায় বিসিবি সভাপতির পদ হারালেন ফারুক আহমেদ। গত বুধবার (২৮ মে) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতিকে ডেকে নিয়ে তাকে পদ থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানান। তাতক্ষণিকভাবে সময় নেয়ার কথা জানালেও পরের দিন এই পদ থেকে সরতে অস্বীকৃতি জানান ফারুক।
বিসিবি সায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সরকার চাইলেই এখান থেকে কাউকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। কারণ সরকারের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেলে আইসিসির পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। মূলত এই বিবেচনায়ই সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েও নিজ পদে বহাল থাকার কথা ভেবেছেন ফারুক।
তবে ফারুক একদিন সময়ও পাননি। গতকাল পদে বহাল থাকার ঘোষণা দেয়ার পর সেদিনই দুটো বড় ধাক্কা খান সাবেক এই ক্রিকেটার। বিসিবির ৮ পরিচালক তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়েছে এদিন। শুধু তাই নয়, বিপিএলে অনিয়মের সত্যানুসন্ধানে যে কমিটি করা হয়েছিল, সেটির রিপোর্টও গেছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফারুকের বিসিবি পরিচালক মনোনয়ন বাতিল করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিসিবির সভাপতিকে অবশ্যই পরিচালক হতে হবে। তাই সেই যোগ্যতার বিচারে বিসিবি সভাপতির পদও হারিয়েছেন ফারুক।
মধ্যরাতে সভাপতিত্ব হারানোর পর শুক্রবার (৩০ মে) সকালে ফারুকের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন ওঠে প্রবলভাবে। বাংলাদেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে গেছেন সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি, বেশকিছু গণমাধ্যমে এমন খবর বেশ চাওর হয়ে ওঠে। তবে এবার সে খবর একেবারেই উড়িয়ে দিলেন ফারুক। জানালেন, দেশেই আছেন তিনি, থাকবেনও দেশেই। আগামীকাল গণমাধ্যমের সামনে মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
এর আগে গতকাল মধ্যরাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনাকে অন্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন ফারুক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আইসিসি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, ‘আমি আনচ্যালেঞ্জড যেতে দেবো না। ফাইট করে যাবো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখবো। আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। আমি আইসিসিতে জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে সেক্রেটারির মাধ্যমে আইসিসি সভাপতি জয় শাহকে পুরো ব্যাপারটি জানিয়েছি। এছাড়া আইসিসির অন্তত ৫-৭ জন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করেছি। আমার বিশ্বাস এবং আমি নিশ্চিত আইসিসি ত্বরিৎ তাদের অ্যাকশন শুরু করবে। দেখবেন আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই বিসিবিতে আইসিসির চিঠি আসবে।’
বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১৩.৩ ধারা অনুযায়ী মৃত্যু, পদত্যাগ, মানসিক ভারসাম্যহীনতা অথবা শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতেই কেবল একজন পরিচালকের পদ শূন্য হতে পারে। মানসিক ভারসাম্যহীনতার ক্ষেত্রে উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। শৃঙ্খলাজনিত শাস্তির বিষয় থাকলে সেটিও হতে হবে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে।
তবে বিসিবির সদ্য সাবেক সভাপতির অপসারণের পেছনে এর কোনোটিই কাজ করেনি। অর্থাৎ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার অপসারণ হয়নি। এক্ষেত্রে বিসিবির ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের ক্রিকেট।
এদিকে, ফারুককে সরিয়ে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবি সভাপতি বানানোর কথা ভাবছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গতকাল তাকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাউন্সিলর বানিয়ে সেই পথ এক ধাপ এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয় সবকিছু সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
ইউডি/কেএস

