বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না হেফাজত আমির

বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না হেফাজত আমির

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ২০:৪০

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দেশের সংস্কৃতি, পরিবারব্যবস্থা এবং নৈতিক রীতিনীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের ধর্মীয় ও নাগরিক দায়িত্ব। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মানবাধিকারের’ নামে ইসলামী শরিয়াহ, পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা করেছে। এসব হস্তক্ষেপ একদিকে যেমন জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিরও পরিপন্থি। তাই বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়া-মাহফিল ও আলোচনার অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আয়োজিত মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের সভাপতিত্বে এই আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- হেফাজত মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি আজহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ, সহকারী মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, মুফতি কামাল উদ্দিন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন এবং দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার।

আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আল্লাহতায়ালা মানুষকে নারী ও পুরুষ- দুই স্বতন্ত্র পরিচয়ে সৃষ্টি করেছেন। ইসলাম একমাত্র বৈধ ও স্বীকৃত বিবাহের পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে- পুরুষ ও নারীর মধ্যে। নারীর সঙ্গে নারীর, কিংবা পুরুষের সঙ্গে পুরুষের তথাকথিত সমকামিতা ইসলাম এবং প্রকৃতি উভয়ের পরিপন্থি। এসব বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে অবাধ যৌনাচার, পারিবারিক অবক্ষয় ও নৈতিক ধ্বংস ডেকে আনে।

মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, প্রকৃত মানবাধিকার মানে হলো—প্রত্যেক মানুষকে তার প্রকৃতি ও ধর্ম অনুযায়ী সম্মান দেওয়া। নারীর সম্মান নারী হিসেবেই রক্ষা করতে হবে; পুরুষের মর্যাদা ও দায়িত্বও পুরুষ হিসেবেই সংরক্ষণ করতে হবে। ইসলামই নারীকে প্রকৃত মর্যাদা দিয়েছে—মা, স্ত্রী, মেয়ে ও বোন হিসেবে। মানবাধিকারের নামে যদি ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে বিদেশি সংস্কৃতির চাপানো নিয়ম চালু করার চেষ্টা করা হয়, তবে ঈমানদার জনতা তা কখনো মেনে নেবে না।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জাতীয় স্বার্থ, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষার স্বার্থে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন এবং বিদেশি দূত নিযুক্তির চুক্তি বাতিল করুন।

মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের ঈমানদার তৌহিদি জনতা দেশের স্বাধীনতা, ইসলামী মূল্যবোধ ও সামাজিক নৈতিকতার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামতে আমরা বাধ্য হব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন—যেখানে কোনো বিদেশি আধিপত্য থাকবে না, থাকবে না রাজনৈতিক নিপীড়ন। এই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের উচিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করা। ব্যর্থ হলে ইতিহাস ও জনতার কাঠগড়ায় তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, এখনো কিছু গোষ্ঠী—যারা দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামবিরোধী—তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের ভেতরে ও বাইরে শত্রুরা সক্রিয়। এদের রুখতে জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। যারা অভ্যন্তর থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করবে ও শত্রুর সঙ্গে হাত মেলাবে, জনতার ঐক্য তাদের প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading