তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে বাছাইপর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ

তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে বাছাইপর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (০৬ জুলাই) ২০২৫, আপডেট ০০:১০

এশিয়ান কাপের মূল পর্বের টিকিট আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শনিবার (৫ জুলাই) তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার। তবে নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও প্রতিপক্ষকে এতটুকুও ছাড় দেয়নি পিটার বাটলারের শিষ্যরা, তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ।

শক্তিশালী বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘উইমেন্স এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব’ শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। এরপর ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় বাংলাদেশের মেয়েরা। টানা দুই জয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

স্রেফ নিয়মরক্ষার ম্যাচেও সেরা একাদশ অপরিবর্তিত রাখলেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। শতভাগ জয় দিয়ে উইমেন্স এশিয়ান কাপ বাছাই শেষের তাড়নাও ম্যাচ শুরু হতেই ফুটে উঠলো। প্রথমার্ধেই সাত গোল করলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র-ঋতুপর্ণারা। তুর্কমেনিস্তানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে বড় জয়ের আনন্দ নিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ।

মিয়ানমারের ইয়াংগুনে শনিবার ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পরে আর জালের দেখা পায়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয় পায় ৭-০ গোলে। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে বাছাই শেষ করার স্বপ্নও পূরণ হয়েছে জেমস বাটলারের দলের।

দলের বড় জয়ের পথে জোড়া গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও ঋতুপর্ণা চাকমা। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন স্বপ্না রানী, মনিকা চাকমা ও তহুরা খাতুন।

এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ, এই খবরটা যখন মেয়েদের কাছে পৌঁছায়; তখন তারা বলেছিলেন তুর্কমেনিস্তানকে হারিয়েই উল্লাস করতে চান। তাদের সেই চাওয়াটা শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হলো।

তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে শুরুটাও করে দাপটের সাথে। গোল উৎসবের শুরু হয় চতুর্থ মিনিটে। তহুরার কাট ব্যাকে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন স্বপ্না। দুই মিনিট পরই ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। সতীর্থের ক্রসে আফঈদার হেড গোলকিপার ফেরানোর পর, বক্সে জটলার ভেতর থেকে নিখুঁত টোকায় জালে বল জড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। ডান দিক থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রস ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি গোলরক্ষক, আলগা বল অনায়াসে জালে পাঠান শামসুন্নাহার জুনিয়র। একটু পরই বক্সের ওপরে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় একটু এগিয়ে দৃষ্টিনন্দন শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মনিকা।

১৭ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন ঋতুপর্ণা। গোলরক্ষক অবশ্য বলের লাইনেই ছিলেন, তবুও তার হাত ফসকে বল জড়ায় জালে। এই গোলের পরই গোলরক্ষক আইশা আমানবেরদুয়েভাকে তুলে নেন কোচ। তার পরিবর্তে মাঠে নামান এলনুরা মাকসুয়েতোভাকে।

তবে তাতেও কোনো লাভ হলো না। পোস্টের নিচে এসেই গোল হজম করেন এলনুরা। আক্রমণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেলেও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি তিনি। ছুটে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান ঋতুপর্ণা। গোলমুখ থেকে টোকা দেন তহুরা।

৩৫তম মিনিটে ঋতুপর্ণার শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়। তার পাঁচ মিনিট পর বক্সের ঠিক ওপর থেকে এই ফরোয়ার্ডের বাম পায়ের শট বাঁক খেয়ে গোলকিপারের গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

প্রথমার্ধেই জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য তেমন একটা মরিয়া ছিলো না পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তরুণদের সুযোগ দিতে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ। রুপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা ও শিউলি আজিমকে তুলে স্বপ্না রানী মন্ডল, উমহেলা মারমা ও হালিমা আক্তারকে মাঠে নামান।

৫৭তম মিনিটে বক্সে ভালো জায়গায় বল পেয়ে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র। বুক দিয়ে বল রিসিভ করেও শট নিতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। তার একটু পর মনিকার দূরপাল্লার শট গ্লাভস গলে বেরিয়ে যায়, এরপর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আটকান তুর্কমেনিস্তানের গোলরক্ষক।

৬১তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপাকে নামান বাটলার। এরপর শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি নামেন সুলতানা। ৮০ ও ৮২তম মিনিটে মারিয়া মান্ডার দুটি শট আটকান গোলকিপার। বাকিটা সময়ে ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের খেলার টিকেট নিশ্চিত করা, টানা তিন ম্যাচেই জয়, ১৬ গোল দিয়ে মাত্র ১টি হজম করার পরিসংখ্যান- সব মিলিয়ে বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে বাছাই শেষ করল বাংলাদেশ।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading