তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে হারানোর ১৪ বছর আজ

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে হারানোর ১৪ বছর আজ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৪:০০

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং সাংবাদিক মিশুক মুনীরকে হারানোর ১৪ বছর আজ। ২০১১ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের জোকায় এক ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান তারা।

‘কাগজের ফুল’ সিনেমার শুটিং লোকেশন দেখে ঢাকায় ফেরার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে থাকা আরো তিনজন চলচ্চিত্রকর্মী মারা যান।

ওই তিনজন হলেন গাড়ির চালক মুস্তাফিজ, তারেক মাসুদের প্রোডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম ও কর্মী জামাল।
তারেক মাসুদ ১৯৮২ সালে শেষ দিকে বাংলাদেরশ ফিল্ম আর্কাইভ থেকে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স শেষ করে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন করেন। চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আদম সুরত’ নামের প্রামাণ্যচিত্র।

এরপর বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তারেক মাসুদ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৯৯৫ সালে তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ ও ১৯৯৬ সালে ‘মুক্তির কথা’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়।

তারেক মাসুদ ২০০২ সালে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ নির্মাণ করেন। এটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। সিনেমাটির জন্য কানে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট লাভ করেন এই নির্মাতা।

‘মাটির ময়না’ সিনেমাটির জন্য ২৭তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার লাভ করেন তারেক মাসুদ। এছাড়া অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র শাখায় নিবেদন করা দ্বিতীয় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র এটি। এর আগে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ নামের সিনেমা অস্কারে প্রদর্শিত হয়।
তারেক মাসুদ আমৃত্যু সিনেমা দিয়ে মানুষের মধ্যে আলো ছড়িয়ে গেছেন। তার পরবর্তী সিনেমা ‘অন্তর্যাত্রা’ (২০০৬) ‘রানওয়ে’ (২০১০) সালে মুক্তি পায়।

এদিকে, ক্যামেরা ‘ডিরেক্টর’ হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছিলেন মিশুক মুনীর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিবিসির ভিডিও গ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। মিশুক মুনীরের আরেক পরিচয় তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে। এছাড়া তিনি সংবাদ ভিত্তিক টেলিভিশন এটিএন নিউজের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন তিনি। তারেক মাসুদের সিনেমা ‘রানওয়ে’র প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন মিশুক। এছাড়া তিনি ‘রিটার্ন টু কান্দাহার’, ‘ওয়ার্ডস অব ফ্রিডম’ প্রামাণ্যচিত্রগুলোতেও কাজ করেছেন।

উল্লেখ্য, নিজ নিজ কর্মে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে (মরণোত্তর) একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

এদিকে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর স্মরণে ‘চলচ্চিত্র পথ’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে চিত্রগ্রাহকদের সংগঠন ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টও যুক্ত আছে এ আয়োজনে। আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বীর উত্তম মীর শওকত সড়কে অবস্থিত গ্রাউন্ড জিরোতে হবে এই অনুষ্ঠান।

চলচ্চিত্র পথ অনুষ্ঠানে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের জীবন, দর্শন, সৃজনশীল কোলাবরেশন ও চলচ্চিত্রে তাদের অবদানের বিষয়গুলো আলোচনা করবেন অতিথিরা। তাদের নিয়ে স্মৃতিচারণা করবেন নির্মাতা প্রসূন রহমান, নাহিদ মাসুদ ও আসিফ মুনীর। দর্শকদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন তারা।

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাদের কাজও দেখানো হবে। প্রদর্শিত হবে তারেক মাসুদের প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’, এতে চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছিলেন মিশুক মুনীর। এ ছাড়া তারেক মাসুদকে নিয়ে নির্মিত প্রসূন রহমানের ‘ফেরা’ সিনেমাটিও দেখানো হবে এ অনুষ্ঠানে। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading