হালদার বেড়িবাঁধের ৫০০ ফুট অংশে ধস
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১১:০০
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে হালদা নদীর বেড়িবাঁধের অন্তত ৫০০ ফুট ধসে পড়েছে। গত সপ্তাহের পাহাড়ি ঢলে ভূজপুর ইউনিয়নের সিংহরিয়া (মইগগের কুম্বারপাড়) এলাকায় হালদার বাঁধের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফাটল দেখা দেয়। পরে সেখানে ধস নামে। এতদিনেও সেটি মেরামত করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় এই দুই স্থান দিয়ে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করায় তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। বাঁধটি স্থায়ী মেরামত করা হয়নি। ফলে এবারও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভূজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের দুটি পয়েন্টে নতুন করে ফাটল দেখা দেয় এবং অন্তত ৫০০ ফুট বাঁধ ধসে পড়ে। ফের ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর বন্যার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কিছু জিও ব্যাগ সরবরাহ করে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা টেকেনি। প্রবল স্রোতে সেগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এবারও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
সরেজমিন দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া জিও ব্যাগ বাঁধের গোড়া থেকে সরে গেছে। এলাকায় বিকল্প সড়ক না থাকায় বাঁধই ছিল স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র পথ। বাঁধ ধসে যাওয়ায় নারায়ণহাট বাজারের মূল সড়কের সঙ্গে ভূজপুরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ফটিকছড়ি সদর হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথও বন্ধ। বাঁধ হয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুবল বড়ুয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, এই বাঁধ স্থায়ীভাবে ঠিক করতে হবে। দুই বছর ধরে প্রশাসন জিও ব্যাগ দিয়ে কোনোরকম সংস্কার করলেও তা পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। এবার যদি পুরো বাঁধ ভেঙে যায়, জীবন রক্ষা করতে পারব না।’
আশঙ্কার সুরে কৃষক আবুল কাশেম বলেন, প্রায় তিন একর জমিতে ধান রোপণ করতে চাচ্ছি। পানি ঢুকে গেলে তো সব শেষ হয়ে যাবে। পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লোকমান জানান, গতবার বন্যায় বাঁধটি ভেঙে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। সেগুলো পানির স্রোতের কারণে টেকেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার জানান, গত বছরের বন্যার পর জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এবার তা পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে। ঠিকাদারকে বাঁধটি পুনঃসংস্কারের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। বরাদ্দ পেলে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে কাজটি টেকসইভাবে করা হবে।
ইউডি/কেএস

