গাজায় শিশুরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় নিস্তেজ

গাজায় শিশুরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় নিস্তেজ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১২:৪০

প্যালেস্টাইন নারী আমিরা মুতেইর তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু আম্মারকে কোলে নিয়ে গাজার এক ক্লিনিকের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আম্মার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে অপুষ্টির কারণে। আম্মারকের মা বলেন, ‘সে এখন আর কাঁদে না। শুধু শুয়ে থাকে, নিঃশব্দে, নিস্তেজ দৃষ্টিতে।‘ রয়টার্সের ক্যামেরায় বন্দি এই দৃশ্য আজ গাজা সংকটের ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২৭ অগাস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান ইঙ্গার অ্যাশিং গাজায় দুর্ভিক্ষের হূদয়বিদারক বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ কেবল একটি প্রযুক্তিগত শব্দ নয়। এটি শিশুদের ধীরে ধীরে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এতটাই দুর্বল যে কান্নাও করতে পারে না।‘

ইঙ্গার অ্যাশিং বলেন, যখন শিশুরা কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবার নাহ খেয়ে থাকে। তখন তাদের শরীর প্রথমে বেঁচে থাকার জন্য তার নিজস্ব চর্বি গ্রহণ করে। কিন্তু যখন তা চলে যায়, তখন আক্ষরিক অর্থেই পেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি খেয়ে নিজেকে গ্রাস করে। এই পরিস্থিতেও আমাদের ক্লিনিকগুলি প্রায় নীরব। এখন শিশুদের কথা বলার বা যন্ত্রণায় চিৎকার করার শক্তি নেই। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে থাকে।

জাতিসংঘ প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা আসে ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে। যেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।

ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন ইনিশিয়েটিভ নামক জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থা জানিয়েছে, গাজা গভর্নরেটে বর্তমানে অন্তত ৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে ভুগছেন, যা গাজার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে। তারা পূর্বাভাস দিয়েছে, যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের সাহায্যপ্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, দুর্ভিক্ষ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য। পরিকল্পিত বাধার কারণে সীমান্তে খাদ্য জমে আছে। কিন্তু বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইসরাইল সরকার। জাতিসংঘের দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ‘গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।

ইউডি/রেজা

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading