মাছ-মাংসের বাজারে খেটে-খাওয়া মানুষদের দীর্ঘশ্বাস

মাছ-মাংসের বাজারে খেটে-খাওয়া মানুষদের দীর্ঘশ্বাস

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১২:২৫

রাজধানীর বাজারে দিন দিন মাছ- মাংসের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাজার করতে গিয়ে খেটে-খাওয়া মানুষ পড়ছেন বিপাকে। গরু ও মুরগির মাংসের দাম সহসাই কমার কোনো ইঙ্গিত নেই, আবার মাছের বাজারেও যেন লেগেছে আগুন। এদিকে গরু ও খাসির দাম স্থির থাকলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পকেটে চাপ বাড়ছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার একাধিক বাজারে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক মাসে মুরগি ও মাছের দামে ২০–৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে, অথচ গরু-খাসির দাম স্থির থাকলেও সেটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। বাজারে বিক্রেতারা যেখানে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন, সেখানে ক্রেতারা বলছেন—যতদিন পর্যন্ত কার্যকর বাজার তদারকি না হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

বাজারে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে মুরগি ও মাছের দাম ক্রমবর্ধমান। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ২০–৩০ টাকা বেড়ে ১৮০–২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি কেজিতে এখন ২৯০–৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ টাকার ওপরে। এছাড়া আজকের বাজারে গরুর মাংস কেজি ৭৫০–৭৬০ টাকায় এবং খাসির মাংস কেজি ১,১০০–১,১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত এক মাসে এ দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। বাইলা মাছ কেজি ৮৫০ টাকা, ট্যাংরা ৮০০, চিংড়ি ১,০০০, পাবদা ৪০০, তেলাপিয়া ২৫০ এবং পাঙাস ২০০–২৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মাসে বাইলা ছিল ৭৫০, টেংরা ৭৫০, পাবদা ৩৫০, চিংড়ি ৯০০, তেলাপিয়া ২১০–২২০, আর পাঙাস ১৮০–১৯০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে মুরগি কিনতে আসা গার্মেন্টস কর্মী মাসুদ রানা বলেন, “আমাদের মতো নিম্নবিত্তদের জন্য মুরগিই একমাত্র ভরসা ছিল। এখন ব্রয়লারও ২০০ টাকার ওপরে, ভাবছি সপ্তাহে একদিন মুরগি খাওয়াই বাদ দেব।”

গৃহিণী রোকেয়া বেগম নামক এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ বাজারে ঘুরছি, কিন্তু পছন্দের মাছ কিনতে পারছি না। যে মাছ পছন্দ হয়, সেটির দাম বেশি, আবার যেগুলোর দাম কম, সেটগুলোর মান ভালো না। যে টেংরা গত মাসে ৭৫০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটা ৮০০। এভাবে পরিবার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

মাছ বিক্রেতা জামাল মিয়া বলেন, “বর্ষার কারণে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ছে, খামারিদের খরচও বেড়েছে। এজন্যই দাম বাড়ছে। আমাদেরও কিছু করার নেই।”

মুরগির বাজারের দোকানি হানিফ মিয়া বলেন, “খাদ্য ও ভাড়ার খরচ বেড়েছে, তাই ফার্মের মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা নেই।”

বনশ্রী কাঁচাবাজারের কসাই শহীদুল ইসলাম বলেন, “গরু-ছাগলের সরবরাহ ঠিক আছে, তাই দামও স্থির রয়েছে। তবে গরুর মাংসের বর্তমান দাম অনেক ক্রেতার জন্যই বেশি।”

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading