বিলুপ্তপ্রায় পাখনাবিহীন পর্পয়েজ বাঁচাতে বিজ্ঞানীদের লড়াই

বিলুপ্তপ্রায় পাখনাবিহীন পর্পয়েজ বাঁচাতে বিজ্ঞানীদের লড়াই

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১০:০০

চীনের ইয়াংসি নদীর শেষ বৃহৎ প্রাণীগুলোর একটিকে বাঁচানোর জন্য লড়াই চালাচ্ছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। এ অঞ্চলে মাছ ধরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ, যা তাদের এ লড়াইয়ে সহায়তা করছে।

ইয়াংসি নদীর তীর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে উহানের ‘ইনস্টিটিউট অব হাইড্রোবায়োলজি’তে বর্তমানে বিলুপ্ত ‘রিভার ডলফিন’ বা শুশুক (চীনা ভাষায় বাইজি) এবং প্যাডেল ফিশের দেহ কাচের ঘরে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে। সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওয়াং শি বলেন, এগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই আমরা ইয়াংসি নদীর পর্পয়েজকে বাঁচাতে চাচ্ছি। এটাই এখন এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হয়ে উঠেছে।

পর্পয়েজ দেখতে অনেকটা শুশুকের মতোই। কিছু পার্থক্য অবশ্য রয়েছে। ফিনলেস পর্পয়েজ বলার কারণ, এদের ডোরসাল ফিন নেই। এ প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা রিভার ডলফিনের দেখাশোনা শুরুর ২২ বছর পর ২০০২ সালে শেষ চেনা বাইজির মৃত্যু হয়। এক বছর পর একটি প্যাডেল ফিশ দুর্ঘটনাক্রমে মৎস্যজীবীদের হাতে ধরা পড়ে। এ প্রজাতির মাছ বিশেষ পাখনাযুক্ত। এ পাখনা তিন মিটারেরও বেশি লম্বা হতে পারে।

মৎস্যজীবীদের হাতে পড়া ওই প্যাডেল ফিশের শরীরে রেডিও ট্যাগ লাগানো ছিল। সেটি ছেড়েও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নদী থেকে প্যাডেল ফিশ এখন অদৃশ্য হয়ে যায়। চীনের বিজ্ঞানীদের এখন লক্ষ্য হলো, ইয়াংসি নদীর ফিনলেস পর্পয়েজ বা পাখনাবিহীন পর্পয়েজের যাতে একই পরিণতি না হয়, তা নিশ্চিত করা।

অধ্যাপক ওয়াং শি ব্যাখ্যা করেছেন, এটাই নদীতে অবশিষ্ট একমাত্র শীর্ষ স্তরের শিকারি। এরা বিরল ও এদের সংখ্যা সব সিস্টেমের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের প্রতিফলন। অর্থাৎ এ প্রজাতির সংখ্যা বাড়লে তা ইঙ্গিত করে, বাস্তুতন্ত্র ভালো অবস্থায় রয়েছে।

সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ করার এ ধারণার কথা প্রথম বলেছিলেন ‘চায়নিজ আকাদেমি অব সায়েন্সেসে’র অধ্যাপক কাও ওয়েনজুয়ান। সেটা ছিল ২০০৬ সাল। ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার জন্য অন্য বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে চাপ আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর আগে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে নিয়মকানুন বেশ কড়া। ইয়াংসি নদী ছাড়াও সংলগ্ন হ্রদ ও উপনদীগুলোতে মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পড়লে কারাদণ্ড হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সমস্যাও দেখা গেছে। এর ফলে দুই লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাখনাবিহীন পর্পয়েজ আজও সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন। এরা পর্পয়েজ পরিবারের প্রাচীনতম শাখার অংশ, যারা এখনও জীবিত রয়েছে।

ইনস্টিটিউটে বিবিসিকে যে পর্পয়েজ দেখানো হয়, সেটা চায়নিজ আকাদেমি অব সায়েন্সসের অধ্যয়নের জন্য বন্দি অবস্থায় রাখা আছে। সেগুলোকে দেখতে হলে পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট যে এলাকা রয়েছে, সেখানে গভীর ট্যাঙ্কের পাশে থাকা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে হবে। পানির ওপর বা নিচ থেকে তাদের লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের সান্নিধ্যে পাখনাবিহীন পর্পয়েজ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। লক্ষ্য করলে অবশ্য তেমনটাই দেখা যায়। সূত্র: বিবিসি

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading