স্বাস্থ্যের সেই মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদকের

স্বাস্থ্যের সেই মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদকের

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০৯:০০

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামীয় কোম্পানির মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বুধবার কমিশন মামলার অনুমোদন দিয়েছে। শিগগির তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এজাহারে বলা হয়, মিঠুর নামে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ পাওয়া গেছে। তার নামে কৃষি জমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট এবং বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগসহ ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার/বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, বিভিন্ন ব্যাংক স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

মিঠুর পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ তার নামে মোট ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তাছাড়া ব্যবসা থেকে আয়, গৃহ সম্পত্তির আয়, কৃষি আয়, বেতন ভাতাদি থেকে আয়, ফার্মের অংশ থেকে আয়, ব্যাংক সুদ থেকে আয়, নিরাপত্তা জামানেতর উপর সুদ থেকে আয় এবং ফরেন রেমিট্যান্স থেকে আয়সহ ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায়।

মিঠুর বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ও তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু বিগতদিনে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। যার মধ্যে দেশের ১২ হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। হাসপাতালগুলো হলো, ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল মৌলভীবাজার, জেনারেল হাসপাতাল গোপালগঞ্জ, আই এইচ টি সিলেট, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতাল এবং রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডি।

ওইসব হাসপাতালে সিন্ডিকেট করে অতি উচ্চ মূল্য দেখিয়ে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ, দরপত্রের শর্তানুযায়ী মালামাল সরবরাহ না করা, কোন কোন ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলন ও অপ্রয়োজনীয় এবং অযাচিত মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে। মিঠুর বিরুদ্ধে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক আছেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading