গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজের
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৩:০৫
প্যালেস্টাইনের গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেছে একটি ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ। এই অভিযোগ জানিয়েছেন ফ্লোটিলার আয়োজক কর্মকর্তারা। এদিকে ফ্লোটিলার নিরাপত্তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইতালি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুর দিকে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নৌবহরটি এখন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১২১ নটিক্যাল মাইল (২২৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে এবং দ্রুতই গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদন মতে, ফ্লোটিলার নিরাপত্তা থেকে ইতালির সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে একটি ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজ ফ্লোটিলার প্রধান জাহাজ আলমার পাঁচ ফিটের মধ্যে চলে আসে এবং এর সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইঞ্জিন জ্যাম করে দেয়।
ফ্লোটিলায় অবস্থান করা আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এই সময় জাহাজটিতে থাকা অধিকারকর্মী নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে তাদের ফোনগুলো সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলেন। ওই সংবাদদাতা পরে জানান, ইসরাইলি জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, যার ফলে নৌবহর ফের চলতে শুরু করে।
তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকার পর আলমা জাহাজের সাথে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়েছে। এই বহরে ৫০টির বেশি নৌযান রয়েছে। নৌযানগুলোতে অবস্থান করছেন ৫০০-এর বেশি যাত্রী, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
গত সপ্তাহে গ্রীস উপকূলে ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। আয়োজকরা এর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে। তবে তেল আবিব অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে ইসরাইল শুরু থেকেই প্রকাশ্যে বলে আসছে, তারা যেকোনো মূল্যে এই নৌবহরকে গাজায় পৌঁছাতে দেবে না।
একের পর এক হামলার পর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সুরক্ষায় সামরিক জাহাজ পাঠায় ইতালি ও স্পেন। তবে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লোটিলার নিরাপত্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় ইতালি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ আর বহরের সঙ্গে থাকবে না।
ইউডি/রেজা

