সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের, আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি

সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা তুরস্কের, আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১২:০৬

প্যালেস্টাইনের গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য় ইসরাইলি হামলা ও স্বেচ্ছাসেবকসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। সেই সঙ্গে আটক স্বেচ্ছাসেবকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা।

এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা বলছে, বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজাগামী নৌবহরে ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সহিংসতার আশ্রয় না নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই হামলা প্রমাণ করে যে, গণহত্যাকারী নেতানিয়াহুর সরকার বাস্তবায়িত ফ্যাসিবাদী ও সামরিক নীতি, যারা গাজাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তা কেবল প্যালেস্টাইন মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ’

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নৌবহরে বাধা এবং কর্মীদের আটক থেকে বোঝা যায় যে, ইসরাইলি বাহিনী ‘ইসরাইলের আরোপিত নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী প্রত্যেককেই’ লক্ষ্যবস্তু করছে’।

আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক তুর্কি নাগরিকদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য এখন সব পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং তুর্কি সরকার নৌবহরে হামলার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেবে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এই নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষের মধ্যে রয়েছে আমেরিকা, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এই বহরে যুক্ত হয়। এ ছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও কিছু নৌযান ত্রাণ নিয়ে বহরে যুক্ত হয়। বর্তমানে বহরটিতে ৪০টি বেশি নৌযান রয়েছে।

এই নৌবহরের প্যালেস্টাইন সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইসরাইল। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা। যাত্রাপথে কোনো বাধা না পেলে নৌবহরটির স্থানীয় সময় আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading