ইন্ডিয়ার মাটি থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে তালেবান মন্ত্রীর বার্তা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৬:৪০
তালেবান গত চার বছরে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নির্মূল করেছে বলে দাবি করেছেন ইন্ডিয়ার সফররত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তিনি পাকিস্তানকে শান্তির জন্য একই পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এনডিটিভির এক প্রশ্নের জবাবে মুত্তাকি বলেন, তাদের একটিও এখন আর আফগানিস্তানে নেই। আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি জমিও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা (২০২১ সালে) অভিযান চালিয়েছিলাম, সেই আফগানিস্তান বদলে গেছে।
‘পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো’ আগে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কিনা সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুত্তাকি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের শিকার ইন্ডিয়ান মাটি থেকে পাকিস্তানের জন্যও একটি বার্তা দেন মুত্তাকি। বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তানের মতো অন্যান্য দেশগুলোকেও এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন পদক্ষেপ আফগানিস্তান নিয়েছে।
এদিকে, মুত্তাকির প্রথম ভারত সফরের মাধ্যমে ইন্ডিয়া-আফগানিস্তানের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
মুত্তাকির সাথে সাক্ষাতের সময় ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, নয়াদিল্লি কাবুলে তার টেকনিক্যাল মিশনকে একটি দূতাবাসে উন্নীত করবে, আফগান মন্ত্রীও একে স্বাগত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মুত্তাকি কাবুলে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের প্রতিবেদনের বিষয়েও কথা বলেন এবং এই ঘটনা পাকিস্তান ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামলা হয়েছে। আমরা পাকিস্তানের এই কাজকে ভুল বলে মনে করি। সমস্যা এভাবে সমাধান করা যাবে না। আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তাদের নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করা উচিত। ৪০ বছর পর আফগানিস্তানে শান্তি ও অগ্রগতি হয়েছে। কারও এতে সমস্যা থাকা উচিত নয়। আফগানিস্তান এখন একটি স্বাধীন জাতি। আমরা যদি শান্তিতে থাকি তাহলে মানুষের সমস্যা কোথায়।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আফগানদের সাহস পরীক্ষা করা উচিত নয়। যদি কেউ এটি করতে চায় (আফগানদের সমস্যায় ফেলতে চায়), তাহলে তাদের সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা এবং ন্যাটোকে জিজ্ঞাসা করা উচিত। তারা ব্যাখ্যা করবে, আফগানিস্তানের সাথে খেলতে যাওয়াটা ঠিক হবে না।
‘কাবুলও ইসলামাবাদের সাথে আরও ভালো সম্পর্ক চায়, কিন্তু তা একতরফা হতে পারে না,’ জোর দিয়ে বলেন আফগান মন্ত্রী।
ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে, তিনি আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ইন্ডিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ইন্ডিয়া ভূমিকম্পের পরপরই ত্রাণ সহায়তা পাঠায় কাবুলে।
সফরকারী মন্ত্রী আরও বলেন, আফগানিস্তান ইন্ডিয়াকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেখে। আফগানিস্তান পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাণিজ্য এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে সম্পর্ক চায়। আমরা একটি পরামর্শমূলক সমঝোতা প্রক্রিয়া তৈরি করতে প্রস্তুত, যা আমাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া সফরে আসেন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।
ইউডি/রেজা

