ঢাকায় সক্রিয় ডেভিল ব্রেথ দিয়ে শিশু অপহরণকারী দল, গ্রেফতার ৩: র‍‍্যাব

ঢাকায় সক্রিয় ডেভিল ব্রেথ দিয়ে শিশু অপহরণকারী দল, গ্রেফতার ৩: র‍‍্যাব

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৬:২০

রাজধানীতে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্র ডেভিল ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস দিয়ে শিশু অপহরণকারী দল। র‍‍্যাব জানিয়েছে, এ দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান র‍‍্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান।

র‍‍্যাব জানায়, রাজধানীতে সক্রিয় সংঘবদ্ধ একটি চক্র ডেভিল ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস দিয়ে শিশুদের সম্মোহিত করে। পরে অপহরণ করে আটকে রাখে। এরপর নিঃসন্তান দম্পতি খুঁজে তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সম্প্রতি মিরপুর ১১ থেকে অপহৃত চার বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতারের পর শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের সন্ধান পায় র‍‍্যাব-৪। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এ কাজ করছে। শিশু বিক্রির পাশাপাশি এরা জ্বীনের বাদশা সেজে ফোন করে শিশু ফিরিয়ে আনার প্রলোভনে টাকাও হাতিয়ে নেয়।

র‍‍্যাবের অনুসন্ধানে উঠে নানা তথ্য, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়-২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর মিরপুর ১১ এর চাঁদনী বিউটি পার্লার সামনে খেলছিল এক শিশু।‌ একব্যক্তি এসে তার নাকের কাছে কিছু একটা ধরলো। মুহূর্তেই শিশুটি ওই ব্যক্তির হাত ধরে হাঁটতে শুরু করে। শিশুটিকে নিয়ে হেঁটে যাওয়ার একাধিক দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরায়। থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিশুটির নাম তানহা।‌ বয়স চার বছর। ১১ মাস বয়সে মা হারোনো শিশু বড় হয়েছেন বাবা ও দাদা-দাদির কাছে। ফুটেজ দেখার পর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে পরিবারটির ওপর।

বিপদ যেন পিছু ছাড়ছিলো তানহার পরিবারের।‌ এবার জ্বিনের বাদশা সেজে ফোন করে শিশুটি খুঁজে দেয়ার প্রলোভন দেখায় তাদের। তিন দফায় হাতিয়ে নেয়া হয় টাকাও বলে জানায় র‍‍্যাব। থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ শুরু করে র‍‍্যাব-৪। অপহরণের ৬ দিন পর পল্লবী থেকে গ্রেফতার করা হয় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া সেই ব্যক্তিকে। তার নাম স্বপন সর্দার।‌ তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু হয় মিরপুর ১২ এ। সেখানে থেকে গ্রেফতার হয় স্বপনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিউটি। বিউটি আবার শিশুটিকে পাঠিয়ে দেয় কেরানীগঞ্জে। এবার কেরানীগঞ্জে স্বপনের প্রথম স্ত্রী নার্গিসের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু তানহা।

এদিকে র‍‍্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, চক্রটি দুইটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করে।‌ একটি দল শয়তানের নিঃশ্বাস দিয়ে অপহরণ করে। অন্যটি অপহৃত শিশুকে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি ব্যবস্থা করে থাকে। বিক্রির আগে আবার জ্বিনের বাদশা সেজে টাকাও হাতিয়ে নেয় তারা।

চক্রের প্রথম দলটি গ্রেফতার হলেও অধরা রয়েছে দ্বিতীয়টি। তাদের ধরতে অভিযানে চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading