বিপজ্জনক রাসায়নিকসহ হাজারো পণ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১১:১০
বেনাপোল বন্দরে বছরের পর বছর পড়ে আছে ১২ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন পণ্য। খোলা আকাশের নিচে রাখায় নষ্ট হচ্ছে গুণগত মান, হচ্ছে চুরিও। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বিপজ্জনক রাসায়নিক। এতে জায়গা সংকটের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বেনাপোল বন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অর্ধশতাধিক গাড়ি। ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে নিলামে তোলার বিধান থাকলেও সেটি করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এমন নিলাম তালিকার পণ্যের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য। এসব পণ্যের কারণে তৈরি হয়েছে জায়গা সংকট।
অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ও রাসায়নিক পণ্য পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছরে বেনাপোল বন্দরে ছোট বড় ৭টি অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে কয়েশো কোটি টাকা। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দরের বিভিন্ন গোডাউনে ঝুঁকিপূর্ণ মালামাল রয়েছে। এতে করে অন্যান্য পণ্যগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি জায়গা সংকটে নতুন পণ্য রাখায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে নিরাপদে বাণিজ্য পরিচালনায় স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য অপসারণ এবং রাসায়নিক ও কেমিক্যাল সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, পরিত্যক্ত পণ্যগুলো যাতে দ্রুত শেড থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহামুদ বিপুল বলেন, পণ্যগুলো দ্রুত নিলামে তুললে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি বন্দরে নতুন পণ্য রাখার জন্য জায়গাও বাড়বে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক ট্রাফিক মো. শামিম হোসেন বলেন, পণ্যগুলোর জন্য বন্দরের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। একইসঙ্গে বন্দরের পরিবেশ নষ্ট করছে। নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্যের ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে এক লাখ মেট্রিক টনের অধিক।
ইউডি/রেজা

