আধুনিক পানিশোধন প্লান্ট: প্রতি ঘণ্টায় মিলবে ২ হাজার লিটার সুপেয় পানি
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১১:৫৫
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে সুপেয় পানির সংকট লাঘবে একটি আধুনিক পানিশোধন প্লান্ট স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই সুপেয় পানির প্রকল্পের কারণে ইউনিয়নের ২/৩ হাজার পরিবার লোনা পানির হাত থেকে বাঁচবে।
জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এসআর হাইস্কুল প্রাঙ্গণে ডিপটিউবওয়েলের মাধ্যমে লোনা পানি উঠিয়ে রিভার্স ওসমোসিস প্রযুক্তিতে স্থাপন করা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে দুটি ইউনিটের। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন হবে দুই হাজার লিটার সুপেয় পানি প্রতি ঘণ্টায়।
দৈনিক এ প্রকল্পে উৎপাদন ক্ষমতা ৪০ হাজার লিটার সুপেয় পানি। তা ছাড়া এখানে পানি সংরক্ষণ করা যাবে ১৫ হাজার লিটার। এ প্রকল্প সৌর শক্তি ও জাতীয় গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
এ দিকে এলাকাবাসী বিজিবির দেয়া সুপেয় পানি পেয়ে খুশি হয়েছেন। তারা জানান, এর আগে লোনা পানি খেয়ে পরিবারের সবাই রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এবার তারা রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন বলে আশাবাদী।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, বিজিবির এ সুপেয় পানির প্রকল্পের কারণে ইউনিয়নের ২/৩ হাজার পরিবার লোনা পানির হাত থেকে বাঁচবে। লোনা পানির কারণে চুলকানি, পাচড়া, আমায়শা, এমন কি নারীদের জরায়ু ক্যান্সারের মত জটিল রোগের হাত থেকে রেহাই পাবেন গ্রামবাসী।
সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন নীলডুমুরের ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব জানান, এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন তারা ৪০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করতে পারবেন। বিজিবির তত্ত্বাবধানে এই সুপেয় পানি সরবরাহ করা হলেও ৬ মাস পর উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধসহ স্থানীয় কমিটি করে দিয়ে এ প্রকল্প দেখাশোনার ভার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘সুপেয় পানি প্রকল্প’ থেকে ২০ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। প্রতিটি পরিবার প্রতিমাসে মাত্র ৫০ টাকার মাধ্যমে কার্ড করে যতখুশি পানিই সংগ্রহ করতে পারবে।
জলবায়ু ও সুপেয় পানি সংকট নিরসনে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লিডার্সের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপকূলের ৭৩ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আর এর মূল কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউডি/রেজা

