যে কারণে কখনও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না মামদানি

যে কারণে কখনও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না মামদানি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৫, আপডেট ১৯:১০

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির জয় আমেরিকার রাজনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এবং নেতৃত্বে যখন আমেরিকায় রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য চলছে, তখন মামদানির বিজয় সেই আধিপত্যকে রীতিমতো ধাক্কা দিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মামদানি। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের বাধা, অপপ্রচার ও হুমকির মধ্যেই এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা।

মামদানির বিজয়ে আমেরিকার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে উচ্ছ্বাস বয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দিকে তাকালে ব্যাপাটি আঁচ করতে পারা যায়। মামদানির অনেক সমর্থক- শুভানুধ্যায়ী ইতোমধ্যে তাকে আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দেখতে চান।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা কখনও সম্ভব নয়। কারণ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আমেরিকার সংবিধানের এক নম্বর সেকশনের দুই নম্বর ধারা। সেই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যদি আমেরিকার প্রেসিডন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই ন্যাচারাল বর্ন সিটিজেন বা জন্মসূত্রে ওই দেশের নাগরিক হতে হবে।”

অর্থাৎ তার জন্ম আমেরিকায় হতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক না হন, তাহলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতাই করতে পারবেননা।

জোহরান মামদানি আমেরিকার নাগরিক হলেও ‘ন্যাচারাল বর্ন সিটিজেন’ নন। তার জন্ম ১৯৯১ সালে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় তার জন্ম। ৭ বছর বয়সে তার মা মীরা নায়ার এবং বাবা মাহমুদ মামদানির সঙ্গে আমেরিকায় আসেন জোহরান। তার মা এবং বাবা উভয়েই ইন্ডিয়ান। আমেরিকায় আসার আগে কিছুকাল বাবা-মায়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন শিশু জোহরান। ২০১৮ সালে আমেরিকার নাগরিক হন মামদানি।

আমেরিকার ইতিহাসে সংবিধানের ১ম সেকশনের দ্বিতীয় ধারা নিয়ে এর আগে বহুবার তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু ধারাটি পরিবর্তন বা বাতিল করা সম্ভব হয়নি। কারণ এই ধারা পরিবর্তন কিংবা বাতিল করতে হলে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।

আর আমেরিকার সংবিধান পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল একটি ব্যাপার। সংবিধানের কোনো ধারা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে সে ব্যাপারে দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ— উভয়কক্ষকে এ ব্যাপারে একমত হতে হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভা এবং স্থানীয় সরকার ইউনিউটগুলোকেও এ ব্যাপারে একমত হতে হবে।

এই পুরো ব্যাপারটি খুবই জটিল এবং প্রায় অসম্ভব। নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাই মামদানি যতই জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হোন না কেন, বর্তমান মার্কিন সংবিধানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তার নেই।

সূত্র : এএফপি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading