মুখস্থ নয়, সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষায় গড়তে হবে: গণশিক্ষা উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৪:১৭
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের মুখস্থ বিদ্যা নয়, প্রকৃত শিক্ষায় গড়তে হবে। শিশুরা যেন মাতৃভাষায় লিখতে পারে এবং মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে।’
শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের পড়াশোনার উদ্দেশ্য সব বই শেখা নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে, একজন শিশু যেন তার মাতৃভাষায় শিখতে পারে, মাতৃভাষায় পড়ে বুঝতে পারে এবং মাতৃভাষায় যেন তার মনের ভাবটি প্রকাশ করতে পারে। শিশুরা যেন প্রাথমিকে গণিতের সাধারণ নিয়ম যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ বুঝতে পারে। সে সাবলীলভাবে লিখতে পারে ও বুঝতে পারে। শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করতে পারলে, সে নিজের উদ্যোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা মুখস্থ করে পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাচ্ছে, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় বেশিরভাগই ফেল করছে। এ কাগজের বৃত্তির কোনো দাম নেই। আমাদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। প্রাইমারিতে একজন শিশু সাবলীলভাবে মাতৃভাষায় সঠিক শিক্ষা শিখতে পারে। সে তার মনের ভাবগুলো লিখতে পারবে। শিশুরা যদি প্রাথমিকে এসব অর্জন করতে পারে, তাহলে নিশ্চিতভাবে মাধ্যমিকে ভালো করবে, উচ্চ শিক্ষায় ভালো করবে এবং জীবনে একজন সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার শিক্ষক নিয়োগ, ভবন নির্মাণসহ সবকিছু করে দেয়। শুধু আপনাদের দেখভাল করতে হবে। এটা আপনাদের সম্পদ, আপনাদের জিনিস। বিদ্যালয় কেমন চলছে, বিদ্যালয়ের সম্পদ কেউ দখল করছে কি না সব আপনাদের দায়িত্ব। শিক্ষকদের সঙ্গে আপনাদের ভালো সম্পর্ক থাকবে, তাদের আপনারা সহযোগিতা করবেন। আপনাদের বাচ্চারা নিয়মিত স্কুলে আসছে কি না, তারা নিয়মিত বাসায় পড়ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) করা। আমরা সকলে যৌথ চেষ্টা করি, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার মানের উন্নতি ঘটবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নুর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান প্রমুখ।
দেশের নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ স্কুল কর্মদিবসে ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ তথা পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে।
ইউডি/কেএস

