দিল্লিতে খলিলুর-দোভাল বৈঠক, ‘প্রধান দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে’ আলোচনা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (১৯ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২১:৩০
ইন্ডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিল্লি সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রধান সব দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) তাদের এ বৈঠকে হওয়ার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জাতীয় নিরাপত্তা নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ইন্ডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও তার দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
“সিএসসি এর কাজ এবং প্রধান প্রধান দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।”
তবে দ্বিপক্ষীয় কোন কোন বিষয় তাদের আলোচনায় ছিল তা স্পষ্ট করেনি বাংলাদেশ হাই কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সুবিধাজনক সময়ে’ বাংলাদেশ সফরের জন্য অজিত দোভালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিলুর।
ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলের পাঁচ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্ডিয়া সফরে গেছেন খলিলুর; যিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ক সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভও।
বুধবার যাওয়ার কথা থাকলেও একদিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থনে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আসা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ইন্ডিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এ বৈঠক হল।
ছাত্র-জনতার তুমুল গণআন্দোলনে ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পালিয়ে ইন্ডিয়া আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইন্ডিয়া সরকারের ‘অতিথি’ হিসেবে দিল্লিতে তার অবস্থানের কথা লিখেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
সেই থেকে বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করে আসছে ইউনূস সরকার।
অপরদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইন্ডিয়া সরকার। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও অপতথ্য’ এবং ‘অতিরঞ্জিত প্রচারণার’ অভিযোগ বাংলাদেশ সরকার করেছে।
বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত ইস্যু এবং দিল্লি থেকে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটেছে।
ইউডি/এবি

