জি-২০ সম্মেলন: ট্রাম্পের বয়কটেও যৌথ ঘোষণাপত্র গৃহীত
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোট জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন। দুইদিন ব্যাপী (২২-২৩ নভেম্বর) এই সম্মেলন বর্জন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরও নেতারা ‘জোহানেসবার্গ ঘোষণাপত্র’ দিয়েছেন। সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ না করার বড় কারণ দক্ষিণ অফ্রিকা।
আয়োজক দেশটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে শেতাঙ্গদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ তুলে আসছেন। তিনি যৌথ ঘোষণায় দেশগুলোকে স্বাক্ষর না করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হয়। ঘোষণাপত্রে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও বিশ্বব্যাপী বৈষম্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়ে একমত হন নেতারা। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানান তারা।
ট্রাম্পের বয়কটে ঘোষণাপত্র তৈরি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো জানায়, সেটা করলে জোটের ওপর বড় প্রভাব পড়বে। যেভাবেই হোক আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়,আমেরিকার এই বয়কটের কারণে হতাশা প্রকাশ করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তার আশঙ্কা জোটটি ভেঙে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা এক জটিল ভূরাজনীতির মুহূর্তে বসবাস করছি। যেখানে একসঙ্গে মিলে বড় বড় সংকট সমাধানের কথা, সেখানে আমেরিকার মতো দেশকে আমরা পাশে পাচ্ছি না। এটা হতাশার।’
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মাখোঁর আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, সামনের পথ কঠিন। বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে আমাদের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং যোগ দেন। তিনি বলেন, একতরফাবাদ ও সুরক্ষাবাদ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে দেশে সংহতির সংকট নিয়ে চিন্তিত বিশ্ববাসী।
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ১২২ দফা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। এতে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নেতারা একমত হয়েছেন। ব্রাজিলে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শেষ হওয়ার দিনই নেতারা ঘোষণা করেন, জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্বব্যাপী সব উৎস থেকে বাড়ানো প্রয়োজন। বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।
জি-২০ ঘোষণাপত্রে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে তাদের ঋণ মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। নেতারা জাতিসংঘের সনদের ভিত্তিতে ইউক্রেন, সুদান, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং ফিলিস্তিনে ন্যায়সঙ্গত, ব্যাপক এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ৩০ পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের সংকট মাত্র একবারই উল্লেখ রয়েছে।
রয়টার্স জানায়, ঘোষণাপত্রে নবায়নযোগ্য শক্তি বৃদ্ধির জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলোর প্রশংসা করা হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর ভোগান্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউডি/এবি

