৪৭তম বিসিএস: লিখিত পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বর্জনের ঘোষণা একাংশের
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (২৬ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৩৫
সাতচল্লিশতম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি মেনে না নেওয়ায় পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার থেকে এই পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এর আগের দিন বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাইফ মুরাদ।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কাছে আমরা হেরে গিয়েছি। আমরা যে কয়জন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এ পরীক্ষা দিতে পারব না, আমরা এ পরীক্ষা বর্জন করলাম। যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকার এসে কোনো স্টেপ নিতে পারে, আমরা তখনও আন্দোলন করব।
“এ পরীক্ষা আমরা বর্জন করলাম, আমাদের সঙ্গে বহু শিক্ষার্থী এ পরীক্ষা বর্জন করবেন। আর এ বিসিএসের শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিসিএসে অংশ নেবেন।”
৪৭ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পিছিয়ে ‘যৌক্তিক সময়ে’ নেওয়ার দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন করছিলেন এ প্রার্থীরা। প্রস্তুতি নেওয়ার ‘যথেষ্ট সময় পাননি’ দাবি করে তারা দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ করে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে পদযাত্রা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে গেলে শাহবাগে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের।
নানা কর্মসূচির পরও পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে পিএসসি সায় দেয়নি তুলে ধরে সাইফ মুরাদ বলেন, “লিখিত পরীক্ষায় পুরাতন শিক্ষার্থী, যারা আগে লিখিত পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং নতুন শিক্ষার্থী থাকেন। সময়টা যদি খুব কম হয়, সে ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষার্থীর জন্য নোটপত্র গুছিয়ে পরীক্ষায় বসার মত সময় থাকে না। আর পুরাতন শিক্ষার্থী দেড় বছর প্রস্তুতি নিয়ে তিন মাস আগে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন। এখন তার যে প্রস্তুতি তা কোটা সুবিধার মত কাজ করবে। এই যে আমাদের ওপর জুলুম হচ্ছিল বলে আমরা বারবার সরকারকে বলেছি, আমরা একটু সময় চাই।
“আমরা বলি নাই গ্রেড বাড়াতে, লবিং করে চাকরি দিতে বা কষ্ট কমায় দিতে। আমরা বলেছি, কষ্ট করতে রাজি আছি, একটু সময় দেন।”
মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের কথা তুলে ধরে সাইফ বলেন, “বৃহস্পতিবার তারা কীভাবে পরীক্ষা দেবে? আমরা সকালে একজন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তিনি আমাদের ‘মুজিববাদী আন্দোলন’ থেকে সরে আসতে বলেন। আমাদের আন্দোলনে কি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল? আমরা জুলুমের স্বীকার হচ্ছি।”
ইউডি/এবি

