গণভোটের প্রচারণায় নামছে জামায়াতসহ ৮ দল, ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করাই লক্ষ্য
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১০:৫৯
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, সংসদের উভয় কক্ষে পিআরসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতসহ আট দলের চলমান আন্দোলন মোড় নিচ্ছে ভিন্ন প্রবাহে। আন্দোলনের স্রোতকে কাজে লগিয়ে গণভোটের রায় রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে দলগুলো।
প্রথমবারের মতো দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে ঢাকার বাইরে কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা এসেছে। তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার নয়, জনগণের সঙ্গী হবে দলগুলো।
জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে সরব ছয়টি ইসলামি দলসহ আট রাজনৈতিক দল।
তবে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে এবং জুলাই সনদের রাষ্ট্রপতির আদেশে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একইদিনে করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার।
সরকারের এমন অবস্থানে নাখোশ জামায়াতসহ ৮ দল। তবে গণভোট যখনই হোক, তাতে যেন রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণ হ্যাঁ ভোট প্রদান করে, সেজন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ৮ দল৷ আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে একই মঞ্চে দেখা যাবে আট দলের শীর্ষ নেতাদের।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভাগীয় শহর গুলোতে আট দলের প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে আমরা যত কথা বলবো তার মধ্যে এটা আমরা যুক্ত করেছি যে জনগণকে এই সংস্কারের মধ্য ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিকভাবে রূপ লাভ করাকে চিরতরে আমরা বন্ধ করতে যাচ্ছি। এটা যে সকলের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই সংস্কারকে আপনারা হ্যাঁ বলুন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমাদ বলেন, গণভোট তো হবেই। নির্বাচনের দিন হোক আগে পরে হোক এ জন্য আমাদের সিদ্ধান্ত হলো বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে আমারা জনণকে উৎসাহিত করবো। সংস্কারের জন্য হ্যাঁ ভোটের জন্য আমরা ক্যাম্পেইন করবো।
তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ ভোট বিজয়ী না হলে সংস্কার হবে না। সংস্কার না হলে আমার যারা ক্ষমতায় আসবে ২৪ এর আগে যে ফ্যাসিবাদ ছিল সেই ফ্যাসিবাদ আবার তৈরি হবে।
নেতারা বলছেন, অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার স্বার্থে পাঁচ দফার আন্দোলন রূপ নিচ্ছে গণভোটের প্রচারণায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস বলেন, হ্যাঁ ভোটের ফায়দা কি আর না ভোটের অপকারিতা কি তা বোঝাতেই সমাবেশের প্রয়োজন আছে। আমাদের প্রত্যেকটা সমাবেশে বারবার আমরা এটা বলবো।
নেতাদের প্রত্যাশা শেষ মুহূর্তে হলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনে সরকার উদ্যোগী হবে৷
ইউডি/রেজা

