সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্সের সিদ্ধান্ত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্সের সিদ্ধান্ত

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (৩০ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:০০

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্য পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে নতুন এ ব্যাংক গঠিত হচ্ছে। নতুন ব্যাংক ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধ মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমানো টাকার বিপরীতে শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি তহবিল এই ব্যাংকে রাখা হবে। একই সাথে আকর্ষণীয় মুনাফা দিয়ে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। এছাড়া ঋণ আদায়সহ বিভিন্নভাবে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো হবে।

জানা গেছে, নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যুর পর একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর একটি স্কিম ঘোষণা করতে পারেন। সেখানে আমানতকারীরা কীভাবে টাকা তুলতে পারবেন তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। শুরুতে আমানত বীমা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। বাকি টাকা ধাপে ধাপে তুলতে পারবেন আমানতকারীরা। কোন উপায়ে টাকা তুলতে পারবেন, কি হারে মুনাফা দেওয়া হবে এই স্কিমে তার বিস্তারিত থাকবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রাথমিকভাবে রাজধানীর মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে একটি অফিস নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছে। শিগগিরই পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ৫ নভেম্বর প্রশাসক নিয়োগ ও ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা আছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন উপায়ে ঋণের বেশিরভাগ বের করে নিয়েছেন আগের মালিক পক্ষ। ফলে বর্তমানে এসব ব্যাংকের এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালন খরচ কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading