নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে: মেডিকেল বোর্ড

নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে: মেডিকেল বোর্ড

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:৫৫

ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার স্বাক্ষরিত বুলেটিনে বিএনপি চেয়ার পারসনের সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, “দেশি-বিদেশি মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। আমরা আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো অনুমান বা ভুল তথ্য প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখুন।

“রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সকলে সহযোগিতা করুন। আমাদের মেডিকেল টিম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে কেবিন থেকে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ স্থানান্তর করা হয়।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা।

মেডিকেল বোর্ড বুলেটিনে বলেছে, “গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় তার স্বাস্থ্যে বেশ কিছু জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তার ফুসফুস ও অন্যান্য অর্গানকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য তাকে ‘ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে’ নেওয়া হয়।

“গত ২৭ নভেম্বর তার ‘অ্যাকিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস’ ধরা পরে, যেগুলোর নিবিড় চিকিৎসা এখনও চলছে। শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের কারণে তাকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এখনো নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে।”

মেডিকেল বোর্ড বলেছে, “পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও ‘ডি আই সি’ এর ফলস্বরূপ তাকে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ‘ট্রানফিউশন’ দিতে হচ্ছে। সমস্ত চিকিৎসার পরও জ্বর না কমার কারণে এবং পাশাপাশি রেগুলার ইকো কার্ডিওগ্রাফিতে ‘অ্যাওর্টিক ভালভে’ এ কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হওয়ায় ‘টিইই’ করা হয় এবং সেখানে ‘ইনফেকটিভ এনডোকারডিটিস’ ধরা পরে। সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শে গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়।”

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading