বড় পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা: অব্যাহতি পেলেন হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৪:২৬
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা থেকে হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে আগে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এ রায় দেয়।
মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মারুফ হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।
পরে আইনজীবী আলতাফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া (সদ্য প্রয়াত), দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও অবসরপ্রাপ্ত এয়ারভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আগেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম (অভিযোগ গঠন) করা হয়। নিম্ন আদালতের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টে ৫৬১এ (মামলার কার্যক্রম বাতিল আবেদন) করি। আগে রুল হয়েছিল, আজ রুল অ্যাবসোলিউট করেছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে চুক্তিতে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম।
২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত এই মামলায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম এবং হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল।
তবে ওইদিনই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া মারা যাওয়ায় মামলার অন্য কয়েকজন আসামিও আগেই অব্যাহতি পান।
বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে গত বছর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
বুধবার শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন।
ইউডি/রেজা

