‘ইতোমধ্যে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে’, সাক্ষাৎকারে সু চির ছেলে
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ২০:৫৫
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি’র স্বাস্থ্যের অবনতি এবং তাকে ঘিরে যে তথ্যের শূন্যতা– এমন পরিস্থিতিতে তিনি মারা গেলেও সেই তথ্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সু চি’র ছেলে কিম আরিস।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে কিম আরিস বলেছেন, তিনি কয়েক বছর ধরে তার ৮০ বছর বয়সি মায়ের কোনো খবর পাননি। ২০২১ সালে সু চি’র সরকার উৎখাত হওয়ার পর থেকে, এই সময়ের মধ্যে মাঝেমধ্যে শুধু তার হৃদ্যন্ত্র, হাড় এবং মাড়ির সমস্যার কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন আরিস।
চলতি মাসের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। আরিস এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনেক বিদেশি সরকারও এই নির্বাচনকে ভুয়া বলে মনে করে। তাদের মতে, এটা সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার কৌশল মাত্র। তবে আরিস মনে করেন, নির্বাচন হলে তার মায়ের দুর্দশা কিছুটা হলেও কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টোকিওতে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরিস বলেন, তার (অং সান সু চি) স্বাস্থ্যগত সমস্যা চলছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কেউ তাকে দেখেনি। পরিবার তো দূরের কথা, তাকে তার আইনি দলের সাথেও যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। আমি যতদূর জানি, ইতোমধ্যেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আরিস আরও বলেন, ‘আমি মনে করি মিন অং হ্লাইং (মিয়ানমার জান্তাপ্রধান)-এর আমার মায়ের ক্ষেত্রে নিজস্ব এজেন্ডা আছে। যদি তিনি নির্বাচনের আগে বা পরে তাকে মুক্তি দিয়ে অথবা গৃহবন্দি করে সাধারণ জনগণকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাকে ব্যবহার করতে চান, তাহলেও অন্তত সেটা কিছু একটা হবে।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স মিয়ানমার জান্তার একজন মুখপাত্রকে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।
রয়টার্স বলছে, ছুটির দিন বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বন্দিদের মুক্তি দেয়ার ইতিহাস আছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর। ২০১০ সালে একটি সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন পর মুক্তি দেয়া হয়েছিল নোবেলজয়ী অং সান সু চি-কে। এর মাধ্যমে তার আগের দীর্ঘ আটকাবস্থার অবসান ঘটে। এরপর, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেতা হয়ে ওঠেন সু চি।
সূত্র: রয়টার্স
ইউডি/রেজা

