ইরানের বাঙ্কার-বাস্টার মিসাইলে ইসরায়েলের ঘুম হারাম

ইরানের বাঙ্কার-বাস্টার মিসাইলে ইসরায়েলের ঘুম হারাম

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০১:১২

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার নাম ইরান-ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক প্রযুক্তিতে বাঙ্কার-বাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংযোজন এই অঞ্চলের চিরচেনা সমীকরণ আরও ওলটপালট করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন কৌশল ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের নাগরিকদের অভেদ্য নিরাপত্তা বলয়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলের প্রতিটি আবাসন, স্কুল বা হাসপাতাল; সবখানেই মামাদন(আবাসিক সুরক্ষা কক্ষ) বা মিকলাত (পাবলিক শেল্টার) থাকা বাধ্যতামূলক। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলিরা এই কংক্রিটের বাঙ্কারগুলোর ওপর আস্থা রেখে এসেছে। তাদের সামরিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হলো, নাগরিকদের সুরক্ষিত রেখে শত্রুর ওপর বিধ্বংসী হামলা চালানো। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই ইসরায়েল অনেকটা নিশ্চিন্তে গাজা, লেবানন বা সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, কারণ তারা জানত পাল্টা হামলায় তাদের জানমালের ক্ষতি হবে নগণ্য।

তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। তেহরান এখন এমন ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করছে যা সুউচ্চ আকাশ থেকে প্রচণ্ড গতি ও অভিকর্ষজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাটির গভীরে থাকা কংক্রিটের বাঙ্কার ভেদ করতে সক্ষম।

অ্যারোডাইনামিক ডিজাইনের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের তথাকথিত অভেদ্য শেল্টারগুলোকে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।

ইরানি সমরবিদদের লক্ষ্য ইসরায়েলকে এই বার্তা দেওয়া যে, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের দিন শেষ। যদি ইসরায়েল তেহরানে আঘাত হানে, তবে তেল আবিবের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারেও কেউ নিরাপদ থাকবে না। এই ভয়ের ভারসাম্যই এখন যুদ্ধের নতুন ব্যাকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতদিন ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশল ছিল মূলত আক্রমণাত্মক। কিন্তু ইরানের বাঙ্কার-বাস্টার প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ শুরু হলে ইসরায়েলকে বাধ্য হয়ে রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে হবে। বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ আই. আসলামের মতে, যদি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে ইসরায়েলি সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে আগাম হামলার নীতি থেকে ইসরায়েলকে সরে আসতে হতে পারে।

বর্তমানে মোসাদ ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের মিসাইল কর্মসূচির প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও চেষ্টা করছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অ্যারো বা আয়রন ডোম) আরও উন্নত করতে।

তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শক্তির প্রযুক্তিগত লড়াই এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে। যদি ইরান এই বাঙ্কার-বাস্টার প্রযুক্তিতে শতভাগ সফল হয়, তবে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ইসরায়েলি সামরিক আধিপত্যের অবসান ঘটতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র ও রাজনৈতিক ভাগ্য চিরতরে বদলে দেবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading