‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’: ব্রিটেনে প্যালেস্টাইনের দূতাবাস উদ্বোধন

‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’: ব্রিটেনে প্যালেস্টাইনের দূতাবাস উদ্বোধন

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ১০:১০

ব্রিটেনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রের দূতাবাস খুলেছে, যাকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লন্ডনে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত।

সোমবার পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথে দূতাবাসটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটেনে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেন, এই দূতাবাস প্রতিষ্ঠা ব্রিটিশ–প্যালেস্টাইনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে “একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।”

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন প্যালেস্টাইনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে গাজায় হাজারো মানুষের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে এই স্বীকৃতি আসে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জোমলট বলেন, “আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদ্‌যাপন করছি—ব্রিটেন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের দূতাবাসের উদ্বোধন। পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধাসহ এই দূতাবাস আমাদের জনগণের সার্বভৌম রাষ্ট্র পাবার অধিকার এবং সকল জাতির সমতার প্রতীক।”

তিনি বলেন, “গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ শরণার্থী শিবির এবং প্রবাসে থাকা প্রজন্মের পর প্রজন্মের প্যালেস্টাইনিদের কাছে এই দূতাবাস প্রমাণ করে যে, আমাদের পরিচয় অস্বীকার করা যাবে না, আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না এবং আমাদের জীবনের মূল্য কমিয়ে দেখা যাবে না।

“এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে, তাদের জন্য এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেন ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে ভিত্তি ধরেছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের ‘রাষ্ট্রত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনি অধিকার ও দায়বদ্ধতা’ স্বীকার করে নিয়েছে লন্ডন।

নতুন দূতাবাসের ফলক উন্মোচনের পর জোমলটের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে কূটনৈতিক কোরের মার্শাল অ্যালিস্টার হ্যারিসন বলেন, দূতাবাসের উদ্বোধন প্যালেস্টাইনের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’।

তিনি বলেন, এটি “আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়” এবং “আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাজার ১৪ বছর বয়সী প্যালেস্টাইনি কিশোর ওবাইদাহ বলেন, “আমি গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরেছি, কিন্তু আমার শরীরে গভীর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি।”

তিনি বলেন, তার পরিবারের একটি অংশ ব্রিটেনে থাকলেও তার বাবা এখনও গাজায় রয়েছেন, যেখানে জীবন এখনো ভয় আর আতঙ্কে ভরা।

ওবাইদাহ বলেন, “একদিন আমি রাষ্ট্রদূত হতে চাই, হয়তো ব্রিটেনেই, যাতে আমি আমার জনগণের জন্য কাজ করতে পারি এবং সারা বিশ্বের কাছে আমাদের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে পারি।

“আজ একটি বিশেষ দিন। ব্রিটেন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি শুধু স্বীকৃতির বিষয় নয়; এটি দূতাবাসের বিষয়, লন্ডনে প্যালেস্টাইনের একটি অংশ থাকার বিষয়।”

তার ভাষায়, ব্রিটেনে এই দূতাবাস হল “এমন একটি জায়গা, যেখানে আমাদের মানুষদের দেখা হয়, আমাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয় এবং যেখানে ন্যায়বিচার ও মর্যাদার জন্য আমাদের আশা বেঁচে থাকে।”

ওবাইদাহ বলেন, “স্বীকৃতি কষ্ট লাঘব করে না, সব ক্ষত সারিয়ে তোলে না। কিন্তু এটা আমাদের একটি কণ্ঠ দেয়, আমার মত শিশুদের বাঁচার, শেখার সুযোগ দেয় এবং এমন একটি জীবনের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে আমরা ভয় ছাড়া বড় হতে পারি, পরিবারগুলো নিরাপদ থাকে এবং গাজা, জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও পুরো প্যালেস্টাইনের সব শিশু মর্যাদা নিয়ে, আশা নিয়ে বাঁচতে পারে।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading