ভোটকেন্দ্রিক নিরাপত্তা: দুই পর্বে মোতায়েন হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ২১:২০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করেছে।পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে।
পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানো হবে।
দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রথম পর্বে বর্তমানে যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা বহাল থাকবেন।
দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন কার্যক্রম চলবে, যেখানে বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।
পরিপত্র অনুযায়ী, সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
প্রয়োজনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পুনর্বিন্যাস করা যাবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে জেলা ও উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব সেলে পুলিশ ও আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে তা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ বা তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এসব টিম সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এলাকাভিত্তিক সমন্বয় সেলে তথ্য পাঠাবে।
এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশ ও আনসার ভিডিপির পাশাপাশি প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এলাকাভিত্তিক অভিযান এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও তল্লাশিচৌকি পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইউডি/এআর

