প্রতি ১৬ মিনিটে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে মহাজাগতিক ধূলিকণা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০
মহাকাশ থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা নিয়মিত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, গড়ে প্রতি এক হাজার সেকেন্ডে, অর্থাৎ প্রায় ১৬ মিনিটে একটি করে মহাজাগতিক ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
এই ধূলিকণাগুলোকে বলা হয় আন্তঃগ্রহীয় ধূলিকণা (ইন্টারপ্ল্যানেটারি ডাস্ট পার্টিকল)। এগুলো মূলত ধূমকেতু ও গ্রহাণু থেকে ছিটকে আসা অতি ক্ষুদ্র কণা। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে কখনো কখনো ‘অণুবীক্ষণিক ভাঙা টুকরো’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই কণাগুলোই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে একটি রহস্যময় ‘উল্কা স্তর’ তৈরি করে। রাতে আকাশে হঠাৎ যে আলোর ঝলক দেখা যায়, যাকে আমরা ‘শুটিং স্টার’ বা উল্কা বলি, সেগুলোর পেছনেও এসব কণার ভূমিকা রয়েছে।
এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ডিইএক্স বা ডাস্ট এক্সপেরিমেন্ট নামের একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে। এটি একটি ছোট আকারের (প্রায় ৩ কেজি ওজনের) মহাকাশযন্ত্র। এটা মহাজাগতিক ধূলিকণার আঘাত শনাক্ত করতে পারে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্রটি একের পর এক ধূলিকণার আঘাতের সংকেত রেকর্ড করেছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, এই যন্ত্রটি মূলত ধূলিকণার আঘাত শুনতে পারে। এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও স্পষ্ট করবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশযানকে এসব ক্ষুদ্র কিন্তু দ্রুতগতির কণার ক্ষতি থেকে রক্ষার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
এই গবেষণার ফল ভবিষ্যতের মানববাহী মহাকাশ মিশনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন যন্ত্র দিয়ে ভবিষ্যতে শুক্র, মঙ্গলসহ অন্যান্য গ্রহের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হবে।
ইউডি/কেএস

