দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৮:১৫
মুসলিম পারিবারিক আইনের আওতায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম বা বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত।মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ের ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ কপিতে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি নেই।
আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদনই প্রযোজ্য।আদালত বলেন, এতদিন সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল—প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ধরনের বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট বিধান আইনে নেই।
রায়ে আরও বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর পর পুরুষের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়।
সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কাণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং নারী সুরক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা অন্যান্য প্রলোভনের কারণে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে, যা পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এ কারণে বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দেন।আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আপিল বিভাগে বিষয়টি গেলে এটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
ইউডি/এআর

