নিলিকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মিলন
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১২ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৯:৪০
রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে তার বাবার হোটেলের কর্মচারী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন নিলিদের বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে নিলির বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন।
পরে শোভা জিমে চলে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একাই পুনরায় বাসায় ঢোকেন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে গেছেন। পরে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।র্যাব জানায়, মিলন দীর্ঘদিন ধরে নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে তিরস্কার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে বাসায় যান মিলন। অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হলে তিনি দড়ি দিয়ে নিলির গলা চেপে ধরেন।
চিৎকার শুরু হলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর ঘরের আসবাব তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
গ্রেপ্তারের সময় মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও নাইলনের দড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ইউডি/এআর

