ইরানে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার, দাবি জেরুজালেম পোস্টের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৯:৪৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পার্সিয়ান ভাষার চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল–এর বরাত দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হতাহতের বড় অংশই ঘটেছে মাত্র দুই রাত—বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে।
ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি ঘটনাটিকে ইরানের ‘সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে এ সংখ্যার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, গত মাসে এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা এখন পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করতে পেরেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা নিরূপণে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দুটি সূত্র এবং মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে কর্মরত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবার, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য এবং বিভিন্ন শহরের চিকিৎসক ও নার্সদের বিবরণও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এইচআরএএনএ জানায়, নিশ্চিত হওয়া ৬৪৬ নিহতের মধ্যে ৫০৫ জন সক্রিয় বিক্ষোভকারী, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ১৩৩ জন সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, একজন কৌঁসুলি এবং সাতজন বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও ৫৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি বা সরকারপন্থী গণমাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ৯৭টি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইরানের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া’ ও ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, সহিংসতার জন্য দায়ী বিদেশি শক্তি, সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থি সমাবেশের খবরও প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপের একাধিক দেশ বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহাল এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইরানি কূটনৈতিক কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্স ও সুইডেন তাদের দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের প্রত্যাহার করেছে বা নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রাখলেও কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এইচআরএএনএ বলছে, যোগাযোগব্যবস্থায় কড়াকড়ির কারণে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকাশিত সব সংখ্যাই আপাতত ন্যূনতম নিশ্চিত হিসাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউডি/এআর

