আমেরিকা-ইরান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩০
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে কাতার। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষে কঠোর অভিযানের জেরে ওয়াশিংটনের হামলার হুমকির পর কাতার ওই সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, আমরা জানি, যেকোনও ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা এই অঞ্চল ও এর বাইরেও বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। যে কারণে আমরা যতটা সম্ভব এই বিপর্যয় এড়িয়ে চলতে চাই।
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত আমেরিকার আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। নিজ ভূখণ্ডে ওই নজিরবিহীন হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করে কাতার।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে শাহ উৎখাতের পর দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউস বলেছে, বিক্ষোভকারীদের দমনে অভিযানের অবসান ঘটাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ইরান থেকে ধীরে ধীরে তথ্য বেরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের বারবার হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান পাল্টা জবাব দেবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও জাহাজকে ‘‘বৈধ লক্ষ্যে’’ পরিণত হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
নরওয়ে-ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, ইরানে বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬৪৮ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ শিশুও রয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কিছু হিসাব অনুযায়ী তা ৬ হাজারেরও বেশি। ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা আছে। যদিও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় ইরান ‘‘ভিন্ন সুর’’ দেখাচ্ছে।
মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, আমরা এখনও এমন অবস্থায় আছি, যেখানে আমাদের বিশ্বাস- এ থেকে কূটনৈতিক সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রতিবেশী ও অঞ্চলটির অংশীদারদের সঙ্গেও আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
সূত্র: এএফপি।
ইউডি/রেজা

