ট্রাম্পের ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ’ বক্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পষ্ট হস্তক্ষেপ: ইরান
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:৫৫
ইরানের জাতিসংঘ দূত আমির সাইদ ইরাভানি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ এবং বৃহত্তর শাসন পরিবর্তন নীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরাভানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিক্ষোভকারীদের ইরানি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, সহিংসতাকে উস্কে দেয় এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
ইরাভানি জানান, ‘২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসন যুদ্ধের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য একটি বৃহত্তর শাসন-পরিবর্তন নীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে দেখা উচিত। আন্দোলনে নিরীহ বেসামরিক মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের প্রাণহানির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকার প্রত্যক্ষ ও অনস্বীকার্য আইনি দায় বহন করছে।’
দূত আমির সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদ এবং সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে বলেন, ‘তারা মার্কিন হস্তক্ষেপ, সহিংসতা উস্কানি এবং বলপ্রয়োগের হুমকির বিরুদ্ধে ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ নিন্দা জানাক। আমেরিকা ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে অস্থিতিশীল নীতি ও অনুশীলন বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা পূর্ণ করতে হবে।’ এছাড়াও তিনি সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরাভানি সকল সদস্য রাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো উস্কানিমূলক বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।’
এদিকে, ট্রাম্প ডেট্রয়েটের একটি অর্থনৈতিক অনুষ্ঠানের পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান থেকে প্রাপ্ত মৃত্যুর সংখ্যা নির্ভুল নয় এবং হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। প্রতিবাদকারীরা ইরানে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারে, প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করতে পারে এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারে। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দেখা যাক এটি তাদের জন্য কীভাবে কাজ করে; এটি ভালোভাবে শেষ হবে না।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে আরও সংকটময় করছে।
ইউডি/রেজা

