তবে কী বিএনপি জোটে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন?
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দলটি কি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে?এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টেক’-এ দেওয়া এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বিএনপি জোটে ইসলামী আন্দোলনের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।জাহেদ-উর রহমানের মতে, ইসলামী আন্দোলনকে জোটে নেওয়ার বাস্তব কোনো রাজনৈতিক প্রয়োজন বা সুবিধা বিএনপির নেই।
বরং এমন সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তিনি বলেন, বিএনপি একটি মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজস্ব মুসলিম ভোটব্যাংক আগে থেকেই রয়েছে। ফলে শরিয়া শাসনের দাবিতে উচ্চকণ্ঠ একটি দলকে জোটে নিলে বিএনপির অতিরিক্ত ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী আন্দোলন যেভাবে প্রকাশ্যে শরিয়া কায়েমের দাবি জোরালো করছে, তাতে বিএনপির সঙ্গে জোট হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিএনপিকে ধর্মীয় চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এতে বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান মনে করেন, ইসলামী আন্দোলন জোটের বাইরে থেকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে সেটিই বরং বিএনপির জন্য তুলনামূলক ‘কমফর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।
এতে ইসলামী ভোট বিভক্ত হবে এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বর্তমান পরিস্থিতি এক নয়।
ফলে সেই মডেল নতুন করে প্রয়োগ করা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে সহজ হবে না।তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইসলামী আন্দোলন এককভাবে বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্য পাওয়ার অবস্থানেও নেই। সে কারণে ভবিষ্যতে দলটি ভিন্ন কোনো কৌশলগত জোটের কথা ভাবতে পারে।
তবে বিএনপির সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি ‘খুবই ক্ষীণ’ বলে উল্লেখ করেন।সব মিলিয়ে, বিএনপি জোটে ইসলামী আন্দোলনের যোগ দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, তাকে বাস্তবতার চেয়ে বেশি ‘রাজনৈতিক গুঞ্জন’ বলেই আখ্যা দেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ইউডি/এআর

