গণভোট প্রচারে সরকারের আমলাদের কোনো বাধা নেই: আলী রীয়াজ

গণভোট প্রচারে সরকারের আমলাদের কোনো বাধা নেই: আলী রীয়াজ

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪২

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদ কোনো সরকারের সনদ নয়; এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত একটি জাতীয় সনদ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সরকারিভাবে গণভোটের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। গণভোটের প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের বৈধতার ভিত্তি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান, যা বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়। এই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা হলো রাষ্ট্র সংস্কার, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। যেন কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত না হয় এবং এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন না করা যায়। জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই গণভোট প্রয়োজন। সংবিধানে বলা হয়েছে, দেশের মালিক জনগণ—আর সেই মালিকানা চর্চার অন্যতম মাধ্যম হলো গণভোট। আসুন, সবাই মিলে এই গণভোটকে সফল করি।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা আজ সৃষ্টি হয়েছে, তা হঠাৎ করে আসেনি। অনেক রক্ত, অনেক প্রাণ এবং দীর্ঘ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এই সম্ভাবনার জন্ম হয়েছে। আমাদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ স্বীকার করতে হবে এবং শহীদদের স্বপ্নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদের প্রসঙ্গ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ আর চলবে না—এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের দিয়ে গেছেন। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি বলেন, অতীতে একজনের ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। বিগত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে একক শাসন দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে। এসব নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত না হয়, সে কারণেই গণভোট প্রয়োজন। জনগণের সম্মতিই গণভোটের মূল ভিত্তি। এই ভোটের গোলাপি ব্যালট রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা তৈরি করবে। এই ব্যবস্থা আমাদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।

নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। অথচ জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে—এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে নিয়োগ হবে সরকার, বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে। মানুষ জামিন নিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading