নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি-পক্ষপাতের সুযোগ নেই: সেনাপ্রধান
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:২৫
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত বা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক দু’টি সভায় সৈনিকদের সাথে দরবার এবং কর্মকর্তাদের সাথে অফিসার্স অ্যাড্রেসে, সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন একটি সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করতে হবে, যাতে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন।
ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের ভয়, চাপ বা প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়।তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষের নয়।
আমরা রাষ্ট্রের, সংবিধানের ও জনগণের পক্ষে।সেনাপ্রধান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
নির্বাচন শেষে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে, এর বাইরে অন্য কোনো ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না।
তার এ বক্তব্যকে নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।বৈঠকে সেনাপ্রধান দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন, সেনাসদস্যদের ধৈর্য ও সংযমই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার।
কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে উসকানিদাতাদের উদ্দেশ্য সফল হয়।সম্প্রতি সেনা হেফাজতে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, সেনা হেফাজতে যেন কোনোভাবেই মৃত্যুর ঘটনা বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে, সে বিষয়ে শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে।
কোনো অপরাধীকে গ্রেফতারের পর দ্রুত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সেনাবাহিনী কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি হেফাজতে রাখবে না।
ইউডি/এআর

