চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি ৩
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২১:৩০
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রকাশ্য বন্দুকযুদ্ধে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ছিন্নমূল এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।নিহত র্যাব সদস্যের নাম মোতালেব।
তিনি বাহিনীটিতে ডিএডি (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) পদমর্যাদায় র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত তিনজন র্যাব সদস্য জিম্মি রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম।
‘নিষিদ্ধ নগরী’ জঙ্গল সলিমপুরজঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। দখলদারিত্ব ও অবৈধ প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি দুর্ধর্ষ সশস্ত্র কাঠামো।
এলাকাটি কার্যত একটি ‘নিষিদ্ধ নগরী’তে পরিণত হয়েছে, যেখানে বসবাসকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিচয়পত্র। বহিরাগতদের তো বটেই, এমনকি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে সেখানে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েছে।শক্তিশালী অপরাধচক্রের দখলে এলাকাএই অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দুটি শক্তিশালী পক্ষ।
‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অন্যদিকে ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নিয়ন্ত্রণ করছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।
বর্তমানে এই দুই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানা গেছে।
অতীতেও রক্তক্ষয়ী হামলা
জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
এতে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ওসি-সহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সন্ত্রাসীরা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
এর আগেও ২০২২ সালে একাধিকবার র্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও বাহিনী সরে যাওয়ার পরপরই পুনরায় শুরু হয় পাহাড় কাটা।
প্রবেশমুখে থাকা পাহারাদারদের সংকেতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আগেভাগেই পাহাড়ের ওপর অবস্থান নেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়—যা প্রতিটি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
সর্বশেষ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউডি/এআর

