তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শিগগিরই: চীনা রাষ্ট্রদূত
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২১:৪৫
শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে পরিবেশ উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তা নদীর উভয় তীর ঘুরে দেখেন। তারা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা, দীর্ঘদিনের সংকট ও দাবিদাওয়া মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ চান।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, “চীনা রাষ্ট্রদূত আজ এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ পাবে।
”গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে চীন কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আজকের এই পরিদর্শন সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।”তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রকল্পটি নিয়ে দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে—একটি কারিগরি দিক থেকে ফিজিবিলিটি শতভাগ সঠিক ও কার্যকর কি না তা যাচাই, অন্যটি আর্থিক দিক থেকে এত বড় বিনিয়োগ চীন সরকারের জন্য টেকসই হবে কি না—এই দুই বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এই পরিদর্শন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে এবং খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তার সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় চীনা রাষ্ট্রদূত রংপুরে পৌঁছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ইউডি/এআর

