যেসব কারণে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত: আল-জাজিরার বিশেষ নিবন্ধ

যেসব কারণে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত: আল-জাজিরার বিশেষ নিবন্ধ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় বাঁক স্পষ্ট। দীর্ঘ দেড় দশকের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন— কে সেই শূন্যতা পূরণ করবে?

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বিশেষ নিবন্ধ অনুযায়ী, সেই প্রশ্নের উত্তরে ক্রমশই ঘুরে ফিরে আসছে একটি নাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ফরিদপুরের ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাকের মতো অনেকেরই অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তনের প্রতীক। জীবনে প্রথমবার তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, তার সমর্থিত দল কেবল বিরোধী শক্তি নয়—বরং শাসক জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার বাস্তব সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ এখন শুধু পোস্টার বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়; গ্রাম-শহরের আলোচনায় তা পরিণত হয়েছে ক্ষমতার সম্ভাব্য প্রতীকে।অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া রাজনীতির চিত্র২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ প্রবেশ করে এক অচেনা রাজনৈতিক পর্বে।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে নির্বাচনী মাঠ কার্যত দ্বিমুখী হয়ে ওঠে। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও অভ্যুত্থানকারী ছাত্রনেতাদের গড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)–নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট।জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইসাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো জামায়াতের উত্থানকে আর গুজব নয়, পরিসংখ্যানের বাস্তবতায় রূপ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) ডিসেম্বরের জরিপে বিএনপির সমর্থন যেখানে ৩৩ শতাংশ, সেখানে জামায়াতের সমর্থন ২৯ শতাংশ।

দেশীয় সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক জরিপে ব্যবধান আরও কমে এসেছে—বিএনপি ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ ক্ষমতার দৌড়ে দুই দল প্রায় সমানতালে।নিপীড়ন থেকে পুনরুত্থানএই অবস্থান জামায়াতের জন্য ঐতিহাসিক।

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দলটি নিষিদ্ধ ছিল, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, হাজার হাজার কর্মী গুম বা হত্যার শিকার হয়েছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে গঠিত বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল সেই দমননীতির প্রধান হাতিয়ার ছিল।

অথচ ইতিহাসের নির্মম পরিহাস—২০২৪ সালের আন্দোলনে ১৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার দায়ে একই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত এখন নিজেদের তুলে ধরছে ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত’ শক্তি হিসেবে। দলের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়ন তাদের প্রতি জনসহানুভূতি বাড়িয়েছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ভাষায়, ‘মানুষ ৫৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখেছে। তারা হতাশ। এখন তারা নতুন কিছু চায়।’

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading